মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার এক যুবকের গলাকাটা বস্তাবন্দী মরদেহ ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলা গ্রাম থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) রাত প্রায় ৮টার দিকে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করা হয়েছে।
নিহত রবিউল ইসলাম (৩৫) মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা ও গোলাম সারোয়ারের ছেলে। তিনি পেশায় পাওয়ার ট্রিলার চালক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস বোয়ালমারীর হাটখোলা গ্রামের বটতলা এলাকার একটি নির্জন স্থানে এসে থামে। পরে গাড়ি থেকে একটি বস্তা ফেলে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এসময় গাড়িতে থাকা কয়েকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে, অন্যরা পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা বস্তার মুখ খুলে ভেতরে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ দেখতে পান। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আটক দুইজনকে হেফাজতে নেয়। উদ্ধারকৃত মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ১৫-৬১৫৮।
আটককৃতরা হলেন, বোয়ালমারী উপজেলার আন্দারকোঠা গ্রামের শাহাজাদা এবং একই উপজেলার পংকজ সাহার ছেলে তপু শাহা।
নিহতের মামা মুশা মোল্যা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে রবিউল একই গ্রামের হাফেজ মোল্যার ছেলে শাহিদুল ইসলামের সঙ্গে বোয়ালমারীর হাটখোলা গ্রামে তার জামাইবাড়িতে যান। সেখানে একটি পাওনা মোটরসাইকেল নিয়ে শাহিদুলের জামাইয়ের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শাহিদুল রবিউলকে রেখে চলে যান। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শাহিদুল ইসলাম ও তার জামাই শহিদুল হক পলাতক রয়েছেন।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মো: সাজ্জাদ হোসেন মাগুরা জেলা প্রতিনিধি, মাগুরা:
