সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ব্রাজিল দলে কার্নিভালের প্রাণশক্তি চান আনচেলত্তি

ব্রাজিল দলে কার্নিভালের প্রাণশক্তি চান আনচেলত্তি

ব্রাজিল দলে কার্নিভালের প্রাণশক্তি চান আনচেলত্তি

নিউজ ডেস্ক : 

মহাকাঙ্ক্ষিত হেক্সা মিশন নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে যাচ্ছেন কার্লো আনচেলত্তি। সেই মিশনের মাসখানেক আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ব্রিটেনের বিখ্যাত দৈনিক গার্ডিয়ানকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সেখানে তিনি ব্রাজিলের ফুটবল সম্পর্কে নিজের মতামত তুলে ধরেছেন। ২৪ বছর ধরে ব্রাজিল যে বিশ্বকাপ জিততে পারছে না, এর পেছনে তিনি প্রত্যাশার প্রবল চাপকে দায়ী করেছেন। এই চাপ মুক্ত রাখার জন্যই বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে কার্নিভালের আবহ চান।

সাক্ষাৎকারের শুরুতেই গার্ডিয়ানের প্রতিবেদক জানতে চান, কার্লো আনচেলত্তি কী একজন উচ্চাভিলাসী মানুষ? ৬৬ বছর বয়সী ইতালিয়ান কোচ হেলান দিয়ে মৃদু হেসে উত্তর দেন, ‘আমি? আমি উচ্চাকাঙ্ক্ষী নই। কেন আপনি এমন প্রশ্ন করছেন?’ এমন প্রশ্নের কারণটা সহজ; পাঁচটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয় এবং স্পেন, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও ইতালিতে লিগ শিরোপাজয়ী ইতিহাসের অন্যতম সফল ম্যানেজার তিনি। কিন্তু আরও চান তিনি। গত বছরের মে মাসে তাঁকে ব্রাজিলের কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল একটিই লক্ষ্য নিয়ে, তা হচ্ছে বিশ্বকাপ জয়। 

কিন্তু আনচেলত্তির জবাব, ‘আমি জয়ের জন্য মরিয়া নই। ফুটবল আমাকে যে মুহূর্তগুলো দিয়েছে, তা উপভোগ করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা আমার আছে। আমি বিশ্বকাপ জেতার জন্য পাগল নই। তবে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার এই সময়টাকে উপভোগ করার আনন্দ ও তাড়না আমার ভেতর রয়েছে।’

অল্প সময় ব্রাজিলের দায়িত্বে থাকলেও দেশটির নাড়ি-নক্ষত্র তিনি বোঝেন। ক্যারিয়ারে ৪০ জনের বেশি ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছেন, ‘আমি ব্রাজিলিয়ানদের চেতনা খুব পছন্দ করি। হলুদ জার্সির প্রতি তাদের বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে। ব্রাজিল এখনও তার নিজস্ব সংস্কৃতি, পরিবার ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধরে রেখেছে, যা ইউরোপ হারিয়ে ফেলেছে। আমি রিও ডি জেনিরোর সৌন্দর্য আর মানুষের শক্তি খুব পছন্দ করি।’ ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে আনচেলত্তি দেখছেন চাপকে, ‘সত্যি বললে, এই বছর আমি যা লক্ষ্য করেছি তা হলো, প্রবল চাপ। খেলোয়াড়দের ওপর প্রচুর চাপ রয়েছে। আমার মনে হয়, খেলোয়াড়রাও নিজেদের ওপর চাপ তৈরি করে, কখনও কখনও সেটা অতিরিক্ত। তাই চাপ ও উদ্বেগের নিচে চাপা পড়ে যায় আনন্দ, ব্রাজিলিয়ানদের প্রাণশক্তি ও সৃজনশীলতা।’ 

ব্রাজিলের আত্মপরিচয়ের জায়গায় হাত দিতে চান না আনচেলত্তি। তবে আধুনিক ফুটবলের তীব্রতার মধ্যে টিকে থাকার উপযোগী করে গড়ে তুলতে চান তিনি। যদিও আনন্দদায়ী ফুটবল নাকি জেতার জন্য খেলা উচিত– বহুল চর্চিত এ প্রশ্নে সরাসরি কোনো পক্ষ নেননি আনচেলত্তি। ব্রাজিল দলের কাছে তিনি যা চান, এর সবচেয়ে পরিষ্কার চিত্র কিন্তু মাঠে নয়, তিনি দেখেছেন কার্নিভালে, ‘চলতি বছর এখানে এটাই ছিল আমার প্রথম কার্নিভাল। আমি দেখেছি এখানে বাঁধভাঙা আনন্দ, দারুণ প্রাণশক্তি। সূর্যোদয় পর্যন্ত নাচছিল মানুষ। আপনি যদি রিও প্যারেড দেখেন, এখানে সবকিছু নিখুঁতভাবে সংগঠিত। টাইমিং, সংগীত সবকিছুই নিখুঁত। এগুলো ব্রাজিলের মানুষের বৈশিষ্ট্য, যা আমি কার্নিভালে দেখেছি এবং ব্রাজিল জাতীয় দলে যা আমি আনতে চাই, তা হচ্ছে– আনন্দ, প্রাণশক্তি, সংগঠন, নিবেদন ও মনোভাব।’ 

আগামী বিশ্বকাপে কোনো ফেভারিট দেখছেন না আনচেলত্তি, ‘আমি মনে করি, এই বিশ্বকাপে কোনো পরিষ্কার ফেভারিট নেই। কারণ, সব দলেই নিজস্ব সমস্যা রয়েছে। কোনো নিখুঁত দল নেই। আমার বিশ্বাস সবচেয়ে প্রাণবন্ত দলটি বিশ্বকাপ জিতবে।’ নিজেদের মর্যাদা ফিরে পেতে ব্রাজিলের কী করতে হবে, সেটাও ভিনিসিয়ুস, রাফিনহাদের বলে দিয়েছেন তিনি, ‘ফুটবলের চূড়ায় ফেরায় কেবল একটিই পথ, সেটা হলো বিশ্বকাপ জেতা।’