শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্লু লেস হত্যা মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন

‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্লু লেস হত্যা মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন

‎ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ক্লু লেস হত্যা মামলার মূল রহস্য উৎঘাটন

খুনের ঘটনায় রুজুকৃত মামলার তদন্ত
শুরু করি। বর্নিত মামলার ভিকটিম জাহানারা(৪৮), স্বামী-মৃত এলেম খান, সাং-আড়াইসিধা, থানা-আশুগঞ্জ, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া গত ইং-১৪/০৫/২০২৬ তারিখ দুপুর অনুমান ০৩.০০ ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কুমারশীল মোড় থেকে আশুগঞ্জ নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য যাত্রীবাহী একটি সিএনজিতে উঠে গমন করলে সিএনজিতে থাকা অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিকটিমকে সিএনজির ভিতরেই ছুরিকাঘাতে খুন করিয়া অত্র থানাধীন অষ্টগ্রাম এলাকার পাকা রাস্তার উপরে বিকাল অনুমান ০৫.২০ ঘটিকার সময় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয় এলাকাবাসী ভিকটিমকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিলে ডাক্তার ভিকটিমকে মৃত ঘোষণা করে। সংবাদ পাইয়া ভিকটিমের পরিবারের 

লোকজন হাসপাতালে এসে ভিকটিমের লাশ দেখে এবং ভিকটিমের ছেলে জুবায়েদুর রহমান খান ইমন বাদী হইয়া অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে অত্র খুন মামলা দায়ের করেন এবং আমি হাওলা মতে আমি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করি। এই মামলার ঘটনার বিষয়ে তদন্তকালে আমি ঘটনাস্থল রাস্তার বিভিন্ন জায়গার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখিয়া প্রথমত ঘটনাচক্রে ব্যবহৃত সিএনজির পিছনে লেখা থাকা "মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহণ" লেখা তথ্য সংগ্রহ করি। উক্ত তথ্যের সূত্র ধরে ইং-১৮/০৫/২০২৬ তারিখ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি সিএনজি গ্যারেজ থেকে সিএনজির পিছনে "মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহণ" লেখা সিএনজি সহ সিএনজি চালক ও মালিক আসামী রিমা আক্তার(৩০), পিতা-মোঃ শাহজাহান মিয়া, মাতা-মৃত মিনা বেগম, সাং-

সুলতানপুর(মধ্যপাড়া), সাং-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া'কে গ্রেফতার করি। সিএনজির পিছনে "মা বাবার দোয়া আয়াত পরিবহণ" লেখা এবং সিএনজির পর্দায় রক্তমাখা দেখে সিএনজিটি শনাক্ত করি। অতঃপর উক্ত আসামীর স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন উত্তর পৈরতলা(দাড়িয়াপুর দাসপাড়া) এলাকার ভাড়া বাসা থেকে খুনের ঘটনার সহযোগী আসামী মাওলানা মোঃ শরীফ উদ্দিন(৩২), পিতা-শফিকুর রহমান, মাতা-আরজুদা বেগম, সাং-ভবানীপুর(সরকার বাড়ি), থানা-আশুগঞ্জ, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বর্তমানে সাং-উত্তর পৈরতলা(দাড়িয়াপুর দাসপাড়া, হাজী জালালের বাড়ির ভাড়াটিয়া), সাং-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া'কে গ্রেফতার করি এবং 

আসামী মাওলানা মোঃ শরীফ উদ্দিন এর নিকট লুকায়িত খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত ০২ টি ছুরি উদ্ধার পূর্বক জব্দ করি। অতঃপর আসামী মাওলানা মোঃ শরীফ উদ্দিন এর স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে খুনের ঘটনায় জড়িত আসামী রিমা আক্তার(৩০), পিতা-মোঃ শাহজাহান মিয়া, মাতা-মৃত মিনা বেগম, সাং-সুলতানপুর(মধ্যপাড়া), সাং-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া'কে সুলতানপুর এলাকার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেফতার পূর্বক উক্ত আসামীর পড়ন থেকে বাদীর শনাক্ত মতে ভিকটিমের ০১ টি সেলোয়ার, ০১ টি উড়না ও ০১ জোড়া জুতা উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করি। 

আসামী রিমা আক্তার এর স্বীকারোক্তি মোতাবেক তার বান্ধবীর বাসা থেকে ভিকটিমের ব্যবহৃত আরো ০২ টি উড়না, ০১ টি কামিজ ও ০১ টি সেলোয়ার উদ্ধার পূর্বক জব্দ করি এবং আসামী রিমা আক্তার এর স্বীকারোক্তি মোতাবেক ধৃত আসামী মাওলানা মোঃ শরীফ উদ্দিন এর ভাড়াটিয়া বাসা থেকে ঘটনায় জড়িত অপর আসামী জুবায়ের এর খুনের ঘটনার সময় পড়নে থাকা একটি রক্তমাখা জিন্স প্যান্ট উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করি। গত ইং-১৮/০৫/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৩.৪০ ঘটিকার সময় বাদীর মাতা ভিকটিম জাহানারা(৪৮) নিজ বাড়ি যাওয়ার জন্য ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর থানাধীন কুমারশীল মোড়ে আসলে ঘটনায় জড়িত আসামী জুবায়ের, রিমা আক্তার ও মোঃ বাদশাহ(সিএনজি চালক) গন ভিকটিমকে দেখিয়া ছিনতাই এর পরিকল্পনা করিয়া আশুগঞ্জ যাবে বলিয়া 

ভিকটিমকে আসামী বাদশাহ এর সিএনজিতে তুলে। তখন ভিকটিমকে সিএনজিতে বসাইয়া আসামী জুবায়ের ও রিমা দ্বয় সিএনজির পিছনে পরিকল্পিত ভাবে যাত্রীবেশে ভিকটিমের দুই পাশে বসে। অতঃপর সিএনজি হাইওয়ে রোডে উঠে কিছুদূর গেলে আসামী জুবায়ের ও রিমা দ্বয় ভিকটিমকে ছুরি ধরিয়া ছিনতাই করার চেষ্টা করিতে থাকিলে ভিকটিম চিল্লাচিল্লি করিতে আরম্ভ করিলে আসামী জুবায়ের ও রিমা দ্বয় ভিকটিমের মাথায় সহ শরীরের বিভিন্নস্থানে ছুরি দিয়া আঘাত করে এবং আসামীরা ভিকটিমকে ইং-১৮/০৫/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ০৫.২০ ঘটিকার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানাধীন তালশহর পূর্ব ইউপিস্থ, অষ্টগ্রাম বাজারের পূর্ব পাশে ২০০ গজ সামনে সিএনজি থেকে 

ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। অতঃপর উক্ত আসামীরা তাদের সহযোগী আসামী মাওলানা মোঃ শরীফ উদ্দিন এর বাসায় যাইয়া তার বেডরুমের বাথরুমে আসামীদের শরীরের রক্ত ধুয়ে পরিষ্কার করে, খুনের ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি ও ঘটনাকালে রক্তমাখা প্যান্ট তার বাসায় গোপন করে। আসামী মাওলানা মোঃ শরীফ উদ্দিন কুফরি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে খুনের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার, কোন মামলা হলে মামলা গায়েবি ভাবে শেষ করে তাদেরকে বাচানোর আশ্বাস দিয়ে আলামত গোপনে সহায়তা করে এবং আসামীদেরকে আশ্রয় পশ্রয় দেয়। আসামী জোবায়ের হোসেন(৩৭), পিতা-মৃত তাজুল ইসলাম, সাং-নরসিংসার, থানা ও জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া'কে সহ গ্রেফতার করা হয়। আসামীদ | 

ব্রাহ্মণবাড়ীয়া সদর উপজেলা প্রতিনিধি মনির হোসাইন