শনিবার, আগস্ট ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্রীপুরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ভাইরাল গ্রেফতার-৫

শ্রীপুরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ভাইরাল গ্রেফতার-৫

শ্রীপুরে ৭ম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও ভিডিও ভাইরাল গ্রেফতার-৫

মাগুরার শ্রীপুরে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর কলাবাগানে নিয়ে গণধর্ষণ এবং ধর্ষণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনায় ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের পর পুলিশ ইতিমধ্যেই সব আসামিকে গ্রেফতার করেছে।

ভুক্তভোগী মিরা খাতুন (১৪) উপজেলার ২ নং আমলসার ইউনিয়নের চরিয়াপাড়া গ্রামের মোঃ মিজানুর সরদারের মেয়ে এবং আমলসার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী।

ভিকটিমের মা মোছাঃ হেলেনা বেগম (৩৬) জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শ্রীপুরের বিলনাথুর গ্রামের মোঃ বদর আলী শেখের ছেলে সৌরভের (২১) সাথে তার মেয়ের পরিচয় হয়। পরিচয় সূত্রে সৌরভ তাকে প্রেমের প্রস্তাব ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল।

গত ০৪ মে, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ মিনিটের সময় শ্রীপুর ট্যাম্পু স্ট্যান্ড বালু মাঠ এলাকা থেকে মিরা খাতুনকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে উপজেলার ৩ নং শ্রীকোল ইউনিয়নের খড়িচাইল গ্রামস্থ মাছ ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়ার মাছের ঘেরের পূর্ব পাশের একটি কলাবাগানের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ১ নং আসামি সৌরভ প্রথমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে অন্য আসামিরা তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে।

ঘটনার এজাহারভুক্ত ৫ আসামি হলেন: ১. মোঃ সৌরভ (২১), পিতা: বদর আলী শেখ, সাং: বিলনাথুর। ২. অনিক (১৯), পিতা: সেলিম, সাং: বিলনাথুর। ৩. রানা বিশ্বাস (২০), পিতা: মৃত শহিদ বিশ্বাস, সাং: ইছাপুর। ৪. নয়ন শেখ (১৯), পিতা: ফজলু শেখ, সাং: বিলনাথুর। ৫. মোঃ হুসাইন (২০), পিতা: মোঃ জিল্লুর রহমান, সাং: বিলনাথুর শ্রীপুর থানা, জেলা মাগুরার বাসিন্দা)


ভিকটিমের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের সময় আসামিরা মোবাইল ফোনে সেই চিত্র ধারণ করে রাখে। ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউকে জানালে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। লোকলজ্জা ও আসামিদের ভয়ে ভিকটিম মিরা খাতুন শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখে।

পরবর্তীতে গত ১৯ মে, ২০২৬ তারিখ সকাল অনুমান ১১:০০ টার সময় ভিকটিমের খালু মোঃ বদিয়ার শেখ (৪৭) স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে লোকজনের মোবাইল ফোনে ফেসবুক, ইমো ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভিকটিমের বাড়িতে গিয়ে পরিবারকে বিষয়টি জানান। পরে মা হেলেনা বেগম মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে মিরা পুরো ঘটনার বিবরণ দেয়।

ঘটনার বিস্তারিত জানার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে ২২ মে, ২০২৬ তারিখে ভিকটিমের মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মে. ওলি মিয়া জানান, মামলার এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আইন অনুযায়ী মাগুরা জেলা জজ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।


সোহেল রানা 
শ্রীপুর মাগুরা প্রতিনিধি: