চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বিভিন্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানো হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ও শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় সরকারি কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ‘বিশেষ বিবেচনার’ দোহাই দিয়ে এই হাটগুলোর অনুমতি দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, শনিবার (২৩ মে) দুপুরে
উপজেলার নানুপুর আবু সোবহান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গিয়ে দেখা যায় এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে গরু-ছাগলের সরগরম উপস্থিতি। ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে মাঠটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ পশুর বাজারে পরিণত হয়েছে। পশুর মলমূত্র ও অতিরিক্ত মানুষের পদচারণায় নষ্ট হচ্ছে মাঠের ঘাস ও পরিবেশ।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুরে মাইজভাণ্ডার আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এবং বৃহস্পতিবার হেঁয়াকো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠেও একই কায়দায় পশুর হাট বসানো হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গাম্ভীর্য ও পরিবেশ নষ্ট করে সেখানে বাণিজ্যিক হাট বসানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, সরকারিভাবে স্কুল মাঠে হাট বসানো নিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন কীভাবে এর অনুমতি দেয় তা আমাদের বোধগম্য নয়। হাটের পর মাঠ যে অবস্থায় থাকে, তাতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বা সমাবেশের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া গোবর ও আবর্জনার দুর্গন্ধে স্কুলের পরিবেশ দীর্ঘ সময় দূষিত থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম স্কুল মাঠে হাট বসানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, "সরকারিভাবে স্কুল মাঠে পশুর হাট না বসানোর ব্যাপারে কঠোর সিদ্ধান্ত থাকলেও ফটিকছড়িতে কয়েকটি সরকারি ইজারাভুক্ত বাজারের নিজস্ব পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই বিশেষ বিবেচনায় ও অনুমতি সাপেক্ষে স্কুল মাঠ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ইউএনও আরও জানান, এক্ষেত্রে একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ইজারাদাররা স্কুলের উন্নয়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ (ডেভেলপমেন্ট ফান্ড) স্কুল কর্তৃপক্ষকে প্রদান করবেন।
শাহনেওয়াজ নাজিম, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
