বগুড়ায় গোপনে আবাসিক ফ্ল্যাটে নকল হারবাল ও প্রসাধনী পণ্য তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল পণ্য, মোড়ক ও কেমিক্যাল জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক কলেজ শিক্ষার্থীকে আটক করে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রবিবার (২৪ মে) দুপুরে শহরের কলোনি করতোয়া রোড এলাকার মন্ডল হাউসে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বগুড়ার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে র্যাব-১২, জেলা পুলিশ, ক্যাব বগুড়া ও ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অভিযানে আটক গোলাম রব্বানী (২০) গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ফলিয়াদীঘি এলাকার আব্দুল মামুদের ছেলে। তিনি বগুড়ার একটি কলেজের শিক্ষার্থী এবং কথিত কারখানার ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। তবে অভিযানের সময় মূল হোতা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
ভোক্তা অধিকার সূত্রে জানা যায়, ওই ফ্ল্যাটে ঢাকার “আশ-শিফা” প্রতিষ্ঠানের প্রশান্তি তেলসহ বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের পণ্য ও মোড়ক হুবহু নকল করে তৈরি করা হচ্ছিল। এছাড়াও ভরসা, নর্থ ফুড, ফ্রী লুক ক্রিম, অশ্বগন্ধা পাউডার, বিটরুট পাউডার, ফেস প্যাক, কাশ্মীরী ভ্যাসলিন, ইউরো কেয়ারসহ বিভিন্ন হারবাল ও প্রসাধনী পণ্যের নকল সংস্করণ উৎপাদন করা হতো।
অভিযানকালে একটি কক্ষে কল সেন্টারের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে কয়েকজন তরুণ-তরুণী অনলাইনে অর্ডার গ্রহণের কাজ করছিলেন। প্রতারক চক্রটি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ফেসবুক পেজ খুলে দেশজুড়ে কুরিয়ারের মাধ্যমে নকল পণ্য সরবরাহ করছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, নাটোরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কেমিক্যাল ও উপকরণ সংগ্রহ করে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই এসব পণ্য তৈরি করা হচ্ছিল। উদ্ধার হওয়া পণ্যগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তা ধ্বংস করা হয়েছে।
ভবনের মালিক সেলিনা আশরাফ জানান, ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া হলেও সেখানে কারখানা পরিচালনার বিষয়টি তার জানা ছিল না।
এদিকে ঢাকার আশ-শিফা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সাকিব মন্ডল বলেন, একটি প্রতারক চক্র তাদের প্রতিষ্ঠানের নাম, মোড়ক ও গ্রাহক তথ্য ব্যবহার করে নকল পণ্য বাজারজাত করছিল। এতে প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
শাকিল রানা
বগুড়া প্রতিনিধি
