নিউজ ডেস্ক :
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর খুব বেশি সময় বাকি নেই। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) থেকে শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর। এবারের বিশ্বকাপটি ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে নিচ্ছে, কারণ প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল অংশ নিচ্ছে। ফলে টুর্নামেন্টটি শুধু বড়ই হয়নি, বরং নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রমাণের এক বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে।এ আসরে অনেক তারকা ফুটবলারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নামবেন। কেউ বয়স কম থাকার কারণে আগে সুযোগ পাননি, আবার কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে এ মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন। তাদের নিয়েই এখন ফুটবল দুনিয়ায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে।
নিচে এমনই ১০ জন সম্ভাব্য বিশ্বকাপ অভিষেক তারকার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো— আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)
নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা আর্লিং হালান্ড বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকারদের একজন। ক্লাব ফুটবলে হালান্ডের গোল করার ক্ষমতা ইতোমধ্যেই আলাদা উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও হালান্ডের রেকর্ড চমকপ্রদ—৪৯ ম্যাচে ৫৫ গোল।
তবে অবাক করার বিষয় হলো, এত বড় তারকা হয়েও এবারই প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন হালান্ড। এর আগে নরওয়ে দল বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি। ফলে হালান্ডের বিশ্বমঞ্চে অভিষেক ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় আকর্ষণ।
নরওয়ের স্কোয়াডে মার্টিন ওডেগার্ডসহ আরও কয়েকজন প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছ। দলটি এবার ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গ্রুপ পর্বে নর্ডিকের এ দেশটি খেলবে ইরাক, সেনেগাল ও ফ্রান্সের বিপক্ষে। হালান্ডকে ঘিরে প্রতিপক্ষ ডিফেন্সগুলোর মধ্যে ইতিমধ্যেই চাপ তৈরি হয়েছে। লামিন ইয়ামাল (স্পেন)
মাত্র ১৮ বছর বয়সেই লামিন ইয়ামাল ফুটবল দুনিয়ায় এক বিস্ময়ের নাম। বার্সেলোনার এ তরুণ উইঙ্গার খুব অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভা দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন। ইয়ামালের ড্রিবলিং, গতি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তাকে বিশেষ করে তুলেছে।
ইউরো ২০২৪-এ বার্সেলোনার এ তরুণ স্পেনের সাফল্যের অন্যতম প্রধান নায়ক ছিলেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ইয়ামালের অসাধারণ গোল এবং পুরো টুর্নামেন্টে একাধিক অ্যাসিস্ট বিশ্বমানের খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এ তরুণ খেলোয়াড়কে।
লামিন এবার বিশ্বকাপে স্পেনের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। এত অল্প বয়সে এত বড় দায়িত্ব নেওয়া সহজ নয়, তবে ইয়ামালকে ঘিরে স্প্যানিশদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। ফ্লোরিয়ান ভার্টজ (জার্মানি)
জার্মান মিডফিল্ডের অন্যতম উজ্জ্বল প্রতিভা ফ্লোরিয়ান ভার্টজ লিভারপুলে বড় ট্রান্সফারের পর এখন বিশ্বফুটবলের আলোচনায়।
২০২২ বিশ্বকাপে ইনজুরির কারণে খেলতে না পারা এ মিডফিল্ডার এবার সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইউরো ২০২৪-এ নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন ফ্লোরিয়ান ভার্টজ, যেখানে দুইটি গোলও করেন।
জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের অধীনে ভার্টজকে আক্রমণভাগের মূল সৃষ্টিশীল শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা হবে। জামাল মুসিয়ালা এবং আরেক তরুণ লেনার্ট কার্লের সঙ্গে মিলিয়ে জার্মানির আক্রমণভাগে নতুন রূপ দেখা যেতে পারে।লুইস দিয়াজ (কলম্বিয়া)
কলম্বিয়ার উইঙ্গার লুইস দিয়াজ দীর্ঘ অপেক্ষার পর প্রথম বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছেন। লিভারপুল এবং বায়ার্ন মিউনিখে খেলে দিয়াজ ইতোমধ্যেই ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে কলম্বিয়া যোগ্যতা অর্জন করতে না পারায় বিশ্বকাপ খেলা হয়নি এ কলম্বিয়ানের। কিন্তু দিয়াজ এবার ক্যারিয়ারের সেরা ফর্মে আছেন।
৭০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা এ উইঙ্গার যদি তার ক্লাব ফর্ম বিশ্বকাপে ধরে রাখতে পারেন, তবে কলম্বিয়াকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারেন।মাইকেল ওলিসে (ফ্রান্স)
ফ্রান্সের তরুণ উইঙ্গার মাইকেল ওলিসে বায়ার্ন মিউনিখে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছে। এ ফরাসি তরুণের গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করার ক্ষমতাও অসাধারণ।
ওলিসের পারফরম্যান্স এতটাই ভালো যে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রথম একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে। এমনকি কিছু ম্যাচে মাইকেল ওলিসে বড় তারকা ডেজিরে দুয়ের মতো প্রতিভাকেও পিছনে ফেলতে পারে।
ওলিসে এখন ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত তরুণ উইঙ্গারদের একজন, এবং বিশ্বকাপে নিজের নাম আরও বড় করে তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।জোয়াও নেভেস (পর্তুগাল)
পর্তুগালের মিডফিল্ডে নতুন শক্তি জোয়াও নেভেস । পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর ইউরোপের অন্যতম সেরা তরুণ মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে জোয়াও নেভেস ।
মাত্র ২১ বছর বয়সেই চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের অভিজ্ঞতা অর্জন করা এ খেলোয়াড় পর্তুগালের জাতীয় দলে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
কখনও কখনও জোয়াও নেভেসকে রাইট-ব্যাক পজিশনেও খেলতে হয়েছে, তবে মূল অবস্থান মিডফিল্ডেই। এবার বিশ্বকাপে এ মিডফিল্ডার পর্তুগালের মাঝমাঠে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।নিকোলাস পাজ (আর্জেন্টিনা)
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার তরুণ মিডফিল্ডার নিকোলাস পাজ ইতালির ক্লাব কোমোতে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছে এ মৌসুমে। কোচ সেস্ক ফেব্রিগাসের অধীনে আরও পরিণত হয়েছে আর্জেন্টাইন এ তরুণ।
নিকোলাস পাজের টেকনিক্যাল দক্ষতা এবং শারীরিক শক্তি তাকে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে খুব কার্যকর করে তুলেছে।
আর্জেন্টিনা এ মিডফিল্ডারকে ভবিষ্যতের বড় তারকা হিসেবে দেখছে। লিওনেল মেসির পাশে থেকে খেললে নিকোলাস পাজ বিশ্বকাপে আরও বড় সুযোগ পেতে পারে। ফোলারিন বালোগান (যুক্তরাষ্ট্র)
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগান এবারের বিশ্বকাপে দলের মূল গোলস্কোরার হিসেবে থাকবেন।
মোনাকোর হয়ে এ ফরওয়ার্ড দারুণ ফর্মে আছে এবং একের পর এক গোল করে নিজেকে প্রমাণ করেছে। তার গতি, ফিনিশিং এবং দুই পায়ে শট নেওয়ার ক্ষমতা তাকে বিশেষ করে তুলেছে।
২০২৪ কোপা আমেরিকাতেও ফোলারিন বালোগান দুই গোল করেছিলেন, যা প্রমাণ করে বড় টুর্নামেন্টে চাপ সামলাতে এ তারকা সক্ষম। এবার ফোলারিন বালোগানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রত্যাশা থাকবে। আর্দা গুলার (তুরস্ক)
তুরস্কের তরুণ প্রতিভা আর্দা গুলার রিয়াল মাদ্রিদে জায়গা করে নিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
ইউরো ২০২৪-এ তার পারফরম্যান্স ছিল অসাধারণ—গোল, অ্যাসিস্ট এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে আর্দা গুলারের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
এবার বিশ্বকাপে আর্দা গুলার তুরস্কের আক্রমণভাগের মূল ভরসা। সতীর্থ কেনান ইলদিজের সঙ্গে তার জুটি দলকে বড় সাফল্য এনে দিতে পারে। ইয়ান দিওমান্দে (আইভরি কোস্ট)
মাত্র ১৯ বছর বয়সি উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দে ইউরোপিয়ান ফুটবলে দ্রুতই বড় নাম হয়ে উঠছেন।
আরবি লাইপজিগে খেলে ইয়ান দিওমান্দে ইতোমধ্যেই বড় ক্লাবগুলোর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। লিভারপুল ও পিএসজির মতো ক্লাব এ তরুণকে পর্যবেক্ষণ করছে।
আফ্রিকান নেশনস কাপে ইয়ান দিওমান্দের পারফরম্যান্স ছিল আশাব্যঞ্জক। এবার বিশ্বকাপে এ তরুণ নিজেকে আরও বড় মঞ্চে প্রমাণ করার সুযোগ পাবেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়, বরং নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের উত্থানের মঞ্চ। অভিজ্ঞ তারকাদের পাশাপাশি এ তরুণ ও নতুন মুখগুলোই এবারের আসরের উত্তেজনা বাড়াবে। তাদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতের ফুটবল বিশ্ব কোন পথে এগোবে।
