কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় গ্যাসবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কের শিমুলতলা এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত এরশাদ আলী (৪০) রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার বালিয়াপুর এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার সময় তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজারহাট থেকে তিস্তার দিকে যাওয়ার পথে একটি গ্যাসবাহী ট্রাকের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে পাঠান।
গুরুতর আহত অবস্থায় এরশাদ আলীকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। আহতরা হলেন— মিজানুর রহমান, রবিউল ইসলাম, শফিউর রহমান এবং সিএনজিচালক দুলু। তাদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার সময় উভয় যানবাহনের গতিই তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। এতে কিছু সময়ের জন্য রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক যান চলাচল নিশ্চিত করে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।”
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গ্যাসবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা রাজারহাট-তিস্তা মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ট্রাফিক তদারকি এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
হাফিজুর রহমান
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
