মাগুরার শালিখায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তা বিতরণকালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, “নতুন জাতীয় বাজেট সম্পূর্ণভাবে দেশের জনগণের কল্যাণে প্রণয়ন করা হয়েছে। এ বাজেট শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।”
শুক্রবার দুপুরে শালিখা উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বিদেশি প্রভাবের কারণে দেশের সংস্কৃতি, ওটিটি এবং বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এ বিষয়ে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে কেউ সাধারণ মানুষকে প্রতারিত বা হয়রানি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৬১জনের মাঝে ঢেউটিন ও নগত ১৮৩০০০ টাকা,৭৬৬ জনকে ২৩ মে.টন চাল এবং ৫০ জনকে ২৫০০০০ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী, সহকারী সচিব হরে কৃষ্ণ অধিকারী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম. সাব্বির হাসান, শালিখা থানার অফিসার ইনচার্জ আশিকুর রহমান, সাবেক উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোজাফফর হোসেন টুকু, সাবেক উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মুন্সি মুনিরুজ্জামান চকলেট, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মুন্সী নয়নুজ্জামান নয়ন, সংস্কৃতি মন্ত্রীর একান্ত সহকারী ফারদিন হাসান সুমনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা চত্বরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন মন্ত্রী।
একই দিনে তিনি শালিখা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম’-এ প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। মেধা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা প্রদ্যুৎ কুমার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হোসনি মোবারক, একাডেমিক সুপারভাইজার বিপ্লব কুমার রায়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রকল্প, স্টার্টআপ পরিকল্পনা এবং সৃজনশীল ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে মন্ত্রী বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের উদ্ভাবনী কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন।
বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে এবং জাতীয় বাজেটে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
বক্তারা বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা এবং নতুন উদ্ভাবন দেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তরুণদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত কার্যকর।
অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS), এসইডিপি এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুধীজন অংশগ্রহণ করেন।
জসীম উদ্দীনঃ শালিখা প্রতিনিধিঃ
