বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এক অনন্য নাম – ওয়াহিদা মল্লিক জলি। মঞ্চ, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রে তাঁর অসাধারণ অভিনয় দক্ষতায় তিনি আজও মুগ্ধ করে চলেছেন দর্শকদের।
জন্ম রাজশাহী শহরে, ১৯৬০ সালের ১৭ই জুন। শিক্ষাজীবন শুরু রাজশাহী পি. এন. গার্লস হাই স্কুলে, পরে ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা এবং দিল্লির প্রখ্যাত ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে অর্জন করেন নাট্যকলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।
অভিনয়জীবনের সূচনা ১৯৭৫ সালে মমতাজউদ্দিন আহমেদ রচিত "স্পার্টাকাস বিষয়ক জটিলতা" নাটকের মাধ্যমে। ১৯৮৬ সালে "কি জ্বালাতন" নাটকে প্রথম টেলিভিশন উপস্থিতি।
এরপর থেকে দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন বহু স্মরণীয় মঞ্চ ও টেলিভিশন নাটক এবং চলচ্চিত্র।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটক:
উজান গাঙ্গের নাইয়া, ভবের হাট, ডলস হাউস, সাকিন সারিসুরি, লাবণ্যপ্রভা প্রভৃতি।
অভিনীত চলচ্চিত্র:
স্বর্গ নরক, বাঙলা, আধিয়ার, খণ্ডগল্প ১৯৭১, লালন, দূরত্ব, মোল্লা বাড়ির বউ, দারুচিনি দ্বীপ, কৃষ্ণপক্ষ, ডুবসাঁতার, অবুঝ বউ, আমার বন্ধু রাশেদ, মৃত্তিকা মায়া, জীবনঢুলি, মায়াবতী ইত্যাদি।
তাঁর অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বাচসাস পুরস্কার।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগে শিক্ষকতা করছেন, আগামীর শিল্পীদের গড়ার নিরলস সাধনায় নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অভিনেতা রহমত আলী-র সহধর্মিণী। এই দম্পতির দুই সন্তান – রজত ও সহন।
জন্মদিনে এন্টার টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে রইল বিনম্র শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা এই প্রতিভাময় শিল্পীর প্রতি।
বাংলার নাট্য-সংস্কৃতিতে আপনার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।