বুধবার, জুন ১৭, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী

আজ বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী

আজ বরেণ্য নাট্যব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরীর  মৃত্যুবার্ষিকী

বাংলাদেশের নাট্যজগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রখ্যাত নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতিকুল হক চৌধুরী ছিলেন আধুনিক টেলিভিশন নাটকের পথিকৃৎ। তাঁর অসামান্য সৃজনশীলতা, মেধা ও নেতৃত্ব নাট্যচর্চায় এনেছিল এক নতুন দিগন্ত।

আতিকুল হক চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি বরিশাল জেলার উলানীয় জমিদার বাড়িতে। পিতা সেরাজুল হক চৌধুরী এবং মা সৈয়দা লুৎফুন্নেসা। তিনি ১৯৩১ সালের ১৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন ভোলার বাটামারা গ্রামে তার নানা বাড়িতে। চার ভাইয়ের মধ্যে আতিকুল হক চৌধুরী সবার বড়। 
আতিকুল হক চৌধুরীর স্কুলজীবন কেটেছে বিভিন্ন স্থানে। বরিশালের সাহেবগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ স্কুল, গৌরনদী হাইস্কুল, ভোলা সরকারি স্কুল, বরিশাল জেলা স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেছেন। বরিশালের বিএম কলেজে তার কলেজ জীবন শেষে তিনি ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। ছিলেন ভাষা আন্দোলনের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী।


১৯৫৪ সালে তাঁর বৈবাহিক জীবন শুরু হয় জহুরুল হকের কন্যা জহুরা বেগম লিলির সঙ্গে। তাঁদের সংসারে দুই পুত্র ও এক কন্যা।
আতিকুল হক চৌধুরীর কর্মজীবনের সূচনা হয় ১৯৫৩ সালে, রেডিও পাকিস্তানের নাটক বিভাগের অনুষ্ঠান প্রযোজক হিসেবে। পরে পাকিস্তান টেলিভিশন ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন, সর্বশেষ উপ-মহাপরিচালকের পদে আসীন ছিলেন।


১৯৯০ সালে সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিয়ে তিনি যোগ দেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে। এখানেও এক দশক শিক্ষকতা করে নতুন প্রজন্মের হাতে নাট্যকলা তুলে দেন। পরে একুশে টেলিভিশনে ‘পরিচালক (অনুষ্ঠান)’ ও পরবর্তীতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

টেলিভিশনে তিনি ৩০০-রও বেশি নাটক রচনা ও প্রযোজনা করেন, যেগুলোর অনেকগুলোই আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন।
তাঁর উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহের মধ্যে রয়েছে—
"বাবার কলম কোথায়", "দূরবীণ দিয়ে দেখুন", "গাইড", "সুখের উপমা", "সাড়ে তিন হাত", "সন্ধি কতদিন", "শহরে ষাট ঘণ্টা", "জুলেখার ঘর", "নীলনকশার সন্ধানে", "খোকাবাবুর প্রত্যাবর্তন", "শেষের কবিতা", "চোখের বালি", "শঙ্খনীল কারাগার", "পরিণীতা", "আমার কথা লিখুন", "জোয়ার এলো", "অক্টোপাস", "সমুদ্র অনেক দূরে", প্রভৃতি।


তাঁর হাত ধরে টেলিভিশন পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন অসংখ্য গুণী অভিনেতা-অভিনেত্রী—
আবদুল্লাহ আল মামুন, ফেরদৌসী মজুমদার, শবনম, হুমায়ুন ফরীদি, শম্পা রেজা, আবুল হায়াত, কেয়া চৌধুরী, মুনমুন আহমেদ, সালমান শাহ, টিসা, শমী কায়সার, খালেদ খান, নাদের চৌধুরী সহ অনেকেই।
নাট্যশিল্পে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন—
* বাংলা একাডেমি পুরস্কার
* জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
* বিটিভির শ্রেষ্ঠ প্রযোজক সম্মাননা
* ভারত সরকারের বিশ্ব উন্নয়ন সংসদ প্রদত্ত সম্মানসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি
এছাড়াও দেশে-বিদেশে বহু সম্মাননা ও স্বীকৃতি।
নাটকের মধ্যে দিয়ে তিনি সমাজকে দেখেছেন, বুঝেছেন ও প্রকাশ করেছেন গভীর জীবনবোধে। আতিকুল হক চৌধুরী ছিলেন একাধারে স্বপ্নদ্রষ্টা, নির্মাতা ও পথপ্রদর্শক।
২০১৩ সালের ১৭ জুন তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


আজ তাঁর প্রয়াণ দিবসে এন্টার টিভি পরিবার গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করছে এই মহান নাট্যজনকে।
নাট্যভুবনে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।