বাংলা নাটক, চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপন জগতের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখ, নন্দিত অভিনেত্রী রিমু রোজা খন্দকার-এর আজ জন্মদিন। এই বিশেষ দিনে তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক শুভেচ্ছা, ভালোবাসা ও শুভকামনা।
মায়ের স্মৃতি ও এক সংগ্রামী শৈশব:
রিমু রোজা খন্দকার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা প্রয়াত টিনা খান এবং রফিকুল ইসলাম খন্দকারের একমাত্র কন্যা। ১৯৮৯ সালে এক ম'র্মান্তিক সড়ক দু'র্ঘটনায় মাকে হারানোর পর, শৈশব থেকেই তাঁকে জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে মায়ের পরিচয়ের আড়ালে নয়, নিজের মেধা, পরিশ্রম ও অভিনয় দক্ষতা দিয়ে তিনি আজ মিডিয়াঙ্গনে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন।
অভিনয় জীবনের এক ঝলক:
২০০৮ সালে ফেরদৌস হাসান রানার পরিচালনায় ‘পৃথিবীর সব রূপ মিশে আছে ঘাসে’ নাটকের মাধ্যমে তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা। এরপর দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি উপহার দিয়েছেন:
২০০+ নাটক
অসংখ্য বিজ্ঞাপন ও শর্টফিল্ম
প্রায় এক ডজন চলচ্চিত্র
উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ও নাটক:
চলচ্চিত্র: ‘গুরু ভাই’, ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘জীবন ঢুলী’, ‘বৃত্তের বাইরে’, ‘লাভ স্টেশন’ এবং ‘কিং খান’।
নাটক: ‘দলছুট প্রজাপতি’, ‘পাল্টা হাওয়া’ ও ‘ভৈরবী’।
মনে রাখার মতো চরিত্র: মতিয়া বানু শুকুর রচনা ও পরিচালনায় জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘কুসুম কথা’-তে ‘বিনু’ চরিত্রে তাঁর অনবদ্য অভিনয় আজও দর্শকের মনে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
শিক্ষা ও মেধার পরিচয়:
ব্যক্তিজীবনে রিমু একজন অত্যন্ত বিনয়ী, মানবিক ও আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ। তিনি টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমস থেকে এসএসসি ও এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় চাকরি করার পাশাপাশি ইডেন মহিলা কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।
শৈশবের নিঃসঙ্গতা, জীবনের নানা প্রতিকূলতা, ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও অগণিত বাধা অতিক্রম করে তিনি আজও অভিনয়কে ভালোবেসে এগিয়ে চলেছেন। কোনো গডফাদার ছাড়া, শুধু নিজের যোগ্যতায় টিকে থাকার এই গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক দারুণ দৃষ্টান্ত।
জীবনের সব চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি আরও এগিয়ে যান তাঁর স্বপ্নের ঠিকানায়; অর্জন করুন আরও সাফল্য, সম্মান ও ভালোবাসা— এই কামনাই করি।
এন্টার টিভি পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার আগামী দিনগুলো হোক আনন্দ, সাফল্য ও সুস্বাস্থ্যে ভরপুর হোক এই কামনা করছি ।