তাঁর অভিনয়ে মাতৃত্ব কখনও ছিল স্নেহময়, কখনও দৃঢ়, কখনও বা আত্মত্যাগের প্রতিচ্ছবি—যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্মগ্রহণ করা রীমা লাগুর প্রকৃত নাম ছিল নির্মলা লাগু। তাঁর মা ছিলেন বিখ্যাত মারাঠি অভিনেত্রী মন্দাকিনী ভাডাংকর। শৈশবেই অভিনয়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটে এবং শিশু শিল্পী হিসেবে তিনি একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে মারাঠি নাট্যমঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।
১৯৭৯ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘সিংহাসন’-এর মাধ্যমে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। ১৯৮৮ সালে ‘কয়ামত সে কয়ামত তক’-এ জুহি চাওলার মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি সারা ভারতের দর্শকদের নজর কাড়েন। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে তিনি মায়ের চরিত্রকে নতুন মাত্রা দেন।
‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’-তে সালমান খানের মা, ‘সাজন’-এ সঞ্জয় দত্তের মা, ‘গুমরাহ’-এ শ্রীদেবীর মা, ‘জয় কিষেণ’-এ অক্ষয় কুমারের মা এবং ‘রঙ্গীলা’-তে ঊর্মিলা মাতন্ডকরের মায়ের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় আজও স্মরণীয়।
বাস্তব - দ্য রিয়্যালটি’ চলচ্চিত্রে সঞ্জয় দত্তের মায়ের চরিত্রে তাঁর অসাধারণ অভিনয় তাঁকে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এনে দেয় এবং সমালোচকদের ব্যাপক প্রশংসা লাভ করে।
টেলিভিশনেও তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। ‘শ্রীমান শ্রীমতী’-এর কোকিলা কুলকার্নি এবং ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’-এর দেবকী বর্মা চরিত্র তাঁকে ভারতীয় টেলিভিশনের কিংবদন্তিদের কাতারে স্থান করে দেয়। ‘তু তু ম্যায় ম্যায়’-এ অভিনয়ের জন্য তিনি ভারতীয় টেলি পুরস্কারও অর্জন করেন।
২০১৭ সালের ১৮ মে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি প্রয়াত হন। মৃত্যুর আগের সন্ধ্যাতেও তিনি ‘নামকরণ’ ধারাবাহিকের শুটিং করছিলেন—যা তাঁর কর্মনিষ্ঠার এক অনন্য উদাহরণ।
রীমা লাগু শুধুমাত্র একজন অভিনেত্রী ছিলেন না; তিনি ছিলেন ভারতীয় দর্শকের আবেগ, ভালোবাসা ও পরিবারের এক চিরচেনা মুখ। তাঁর স্নেহময়ী হাসি, স্বাভাবিক অভিনয় এবং হৃদয়স্পর্শী উপস্থিতি আজও দর্শকের মনে সমানভাবে জীবন্ত।