আজ কিংবদন্তি অভিনেতা অমরিশ পুরির জন্মদিনে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সেই বিস্ময়কর শিল্পীকে, যিনি অভিনয়ের অসামান্য নৈপুণ্য দিয়ে কোটি মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন।
তিনি ছিলেন শুধু এক জন অভিনেতা নন—তিনি ছিলেন প্রজ্ঞার প্রতিমূর্তি, দৃপ্ত কণ্ঠ ও শরীরী ভাষায় ভাস্বর এক চরিত্রস্রষ্টা, যাঁর উপস্থিতি একাই পর্দা দখল করে নিত।
১৯৩২ সালের ২২শে জুন পাঞ্জাবের নওয়ানশহরে জন্ম অমরিশ লাল পুরির। বাবা লালা নিহাল চাঁদ ও মা বেদ কৌরের ঘরে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর পরিবারেই ছিল রূপালী পর্দার সংযোগ। বড় ভাই মদন পুরী ও চমন পুরী ছিলেন বলিউড অভিনেতা এবং চাচাতো ভাই ছিলেন স্বনামধন্য কণ্ঠশিল্পী ও অভিনেতা কেএল সায়গল।
১৯৫০-এর দশকে চলচ্চিত্রে ভাগ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে মুম্বাইয়ে এলেও প্রথম স্ক্রিন টেস্টে ব্যর্থ হন। তবে হাল না ছেড়ে সরকারি চাকরির পাশাপাশি থিয়েটারে মনোনিবেশ করেন। পৃথ্বী থিয়েটারে সত্যদেব দুবের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে নিজের প্রতিভা মেলে ধরেন।
১৯৭৯ সালে পান সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার।
১৯৭১ সালে ‘রেশমা অউর শেরা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন।
বলিউডের খলনায়কের সংজ্ঞা পাল্টে দেওয়া এক নাম:
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি অভিনয় করেন প্রায় ৪০০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে—হিন্দি, পাঞ্জাবি, তামিল, তেলুগু, মালায়ালম, কন্নড়, মারাঠি এবং ইংরেজি ভাষায়।
তাঁর কণ্ঠ, চোখের ভাষা, শরীরী আবেগ এবং দৃপ্ত সংলাপ উচ্চারণ তাঁকে করে তুলেছিল বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় ‘ভিলেন’।
স্বয়ং স্টিভেন স্পিলবার্গ তাঁকে আখ্যা দিয়েছিলেন তাঁর প্রিয় ভিলেনদের অন্যতম হিসেবে।
পুরস্কার ও সম্মান: তিনবার জিতেছেন ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা পুরস্কার।
জীবনের শেষভাগে তিনি মায়েলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোম নামক বিরল রক্তরোগে আক্রান্ত হন। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর তিনি কোমায় চলে যান এবং ২০০৫ সালের ১২ জানুয়ারি সকাল ৭:৩০-এ পৃথিবীকে চির বিদায় জানান।
অমরিশ পুরি কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক সাংবাদিক চোখের শিল্পী, এক ভাষাহীন বিষাদের ভাষ্যকার, যিনি তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের আত্মাকে ছুঁয়ে গিয়েছেন।
আজও, প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি সংলাপ, প্রতিটি চরিত্রে তিনি অনুরণিত হয়ে থাকেন আমাদের মনে।
এন্টার টিভি পরিবার থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি কিংবদন্তি।
আপনি নেই, কিন্তু আপনার সৃষ্টি বেঁচে আছে আমাদের হৃদয়ের পর্দায় চিরকাল।