নিভৃত পল্লির সবুজ প্রকৃতির মাঝখানে বিশাল এলাকাজুড়ে মিশ্র ফলের বাগান। কাঠ-বাঁশের তৈরি ছোট্ট ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই চোখে পড়ে আঙুরের মাচা। মাথার ওপর ঝুলছে ছোট ছোট আঙুরের থোকা। কিছুটা সামনে এগোতেই সারি সারি আমগাছ, প্রতিটি গাছে ঝুলছে ফ্রুট ব্যাগে মোড়ানো আম। আমবাগান পেরিয়ে শুরু হয়েছে কমলাবাগান। যেন প্রকৃতির বুকে এক অনন্য ফলের রাজ্য।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর পশ্চিমপাড়া এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘তওয়াক্কলনা ফ্রুটস অ্যান্ড এগ্রোট্যুরিজম’ নামে এই মিশ্র ফলের বাগান। প্রায় ৮ বিঘা জমির ওপর ২০২১ সালে চার উদ্যোক্তা—মো. অলিউল্লাহ বাইজিদ, মো. ফারুক আহমেদ, মো. আবদুল মতিন ও মো. আইনুল হকের উদ্যোগে বাগানটির যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে বাগানটির সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন স্থানীয় যুবক মো. সবুজ মিয়া।
বাগানে ঘুরে দেখা যায়, দুই পাশের গাছে ঝুলছে বিভিন্ন জাতের রসালো ও বড় আকারের আম। ক্রেতারা নিজের পছন্দমতো গাছ থেকে আম পেড়ে কিনে নিচ্ছেন। বাজারের তুলনায় কিছুটা কম দামে সরাসরি বাগান থেকে বিষমুক্ত ফল সংগ্রহের সুযোগ থাকায় প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থী ও ক্রেতার সংখ্যা।
মিশ্র বাগানের উদ্যোক্তা ও তত্ত্বাবধায়ক মো. সবুজ মিয়া বলেন, “তওয়াক্কলনা ফ্রুটস অ্যান্ড এগ্রোট্যুরিজমকে অনেকে ভাইরাল কমলার বাগান হিসেবেই চেনেন। তবে কমলার পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন জাতের আমসহ প্রায় ২২শ ফলজ গাছ রোপণ করেছি। এখানে রয়েছে কমলা, মাল্টা, ড্রাগন, সফেদা, জাম্বুরা ও বলসুন্দরী বরই। বর্তমানে বিদেশি জাতের ব্যানানা ম্যাঙ্গু, থাই কাটিমন, রকমাই, তাইওয়ান গ্রিন ও গৌরমতি জাতের আম সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ তৈরি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে ফল উৎপাদন করছি। প্রতিটি গাছে ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর কীটনাশক বা কার্বাইড ব্যবহার করা হয় না। ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসে গাছ থেকে পছন্দের আম পেড়ে নিয়ে যেতে পারেন।”
উদ্যোক্তাদের দাবি, থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় জাত ‘ব্যানানা ম্যাঙ্গু’ স্বাদ ও সৌন্দর্যের দিক থেকে অনন্য। দেশে এ জাতের আমের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাও উজ্জ্বল। বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফল উৎপাদনের মাধ্যমে ভোক্তাদের কাছে স্বাস্থ্যসম্মত ফল পৌঁছে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।
সবুজ-শ্যামল পরিবেশে গড়ে ওঠা এই বাগান এখন শুধু ফল উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং হয়ে উঠেছে কৃষিভিত্তিক পর্যটনেরও এক নতুন আকর্ষণ। দর্শনার্থীরা পরিবার নিয়ে এসে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর পাশাপাশি গাছ থেকে নিজ হাতে ফল সংগ্রহের ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন।
শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি:
