বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা অভিনেতা শাহরুখ খান। তবে এই অবস্থানে পৌঁছানোর আগে তাকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। বলিউডে কোনো পারিবারিক প্রভাব বা গডফাদার ছাড়াই মেধা-পরিশ্রম গুণে হয়ে উঠেছেন ‘কিং খান’।
কয়েক দিন আগে কিন্ডল কাস্টকে সাক্ষাৎকার দেন অভিনেতা পঙ্কজ কাপুর। এ আলাপচারিতায় শাহরুখের ছোটবেলার ঘটনা নিয়ে কথা বলেন। সেখানে তিনি জানান, দিল্লির ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে (এনএসডি) পড়ার সময় প্রায়ই ছোট একটি ছেলে তাদের কাছে সমুচা পৌঁছে দিতেন। সেই ছেলেটিই ছিলেন বর্তমান সুপারস্টার শাহরুখ খান।
স্মৃতিচারণ করে পঙ্কজ কাপুর বলেন, “আমাদের জন্য যে সমুচা আসত, সেটা নিয়ে আসত শাহরুখ। তখন তার বয়স ছিল প্রায় ১০ বছর। যতদূর মনে পড়ে, সে সময় শাহরুখের বাবা কিংবা চাচা এনএসডির ক্যান্টিন পরিচালনা করতেন।”
বহু বছর পর ভাগ্যের পরিহাসে দুজন একসঙ্গে কাজ করেন। ১৯৯৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত রাজিব মেহেরার অ্যাকশন-থ্রিলারধর্মী ‘রাম জানে’ সিনেমায় শাহরুখ ও পঙ্কজ কাপুরকে একসঙ্গে দেখা যায়।
শাহরুখের বাবা মীর তাজ মোহাম্মদ খান দিল্লিতে একজন রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী ছিলেন। সাফদারজং এলাকায় তার ‘খাতির’ নামে একটি পরিচিত খাবারের দোকান ছিল। পাশাপাশি তিনি এনএসডির মেসও পরিচালনা করতেন।
এর আগে শাহরুখ নিজেও জানিয়েছেন, তার শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে এনএসডিতে। তার বড় বোন শাহনাজ লালারুখ খান সেখানে ক্লাস করতেন। তাই স্কুল শেষে বোনের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে শাহরুখ প্রায়ই এনএসডিতে সময় কাটাতেন।
২০১৪ সালে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহরুখ বলেছিলেন, “আমি খুবই মিষ্টি একটা বাচ্চা ছিলাম। ভারতের সেরা অভিনেতাদের সান্নিধ্যেই আমার পুরো শৈশব কেটেছে।”
এনএসডিতে বেড়ে ওঠার কারণে ভারতীয় থিয়েটারের অনেক কিংবদন্তি শিল্পীকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন শাহরুখ। তাদের মধ্যে ছিলেন পঙ্কজ কাপুর, রঘুবীর যাদব, রাজ বাব্বর, নাদিরা বাব্বর, নাসিরুদ্দিন শাহ, রোহিনী হাত্তাঙ্গাদি ও অনুপম খের। পরবর্তীতে এদের অনেকের সঙ্গেই সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।
সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে শাহরুখ বলেছিলেন, “মাসের পর মাস আমি তাদের নাটক ও মহড়া দেখেছি। তাদের দেখেই অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখি। এখন হয়তো নিয়মিত দেখা হয় না, কিন্তু অভিনয় শেখার ক্ষেত্রে তাদের অবদান অনেক।”