সামাজিকমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাহিদ হাসান। তার বক্তব্য বিকৃত করে ভিন্ন ঘটনার ভিডিওর সঙ্গে যুক্ত করে একাধিক ফেসবুক পেজে প্রকাশিত কনটেন্ট নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে ব্যক্তিগত জীবন, সংগ্রাম ও মানসিক অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জাহিদ হাসান বলেছিলেন, ‘আমি কষ্টে মরে যাচ্ছি, তবু মুখে হাসি রাখার চেষ্টা করি।’ তবে তার এই বক্তব্যের প্রকৃত প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে কিছু ফেসবুক পেজ তা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রয়াত অভিনেতা শামস সুমনের জানাজার একটি ভিডিওর সঙ্গে ওই সাক্ষাৎকারের বক্তব্যজুড়ে বিভ্রান্তিকর ও আপত্তিকর শিরোনামে কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাহিদ হাসান।
তিনি বলেন, ‘যা দেখছি, সভ্যতা-ভব্যতার সব সীমা অতিক্রম করছে এসব ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ। দিন দিন এদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। এভাবে তো চলতে পারে না।’
জাহিদ হাসান জানান, তার আইনজীবী ও ডিজিটাল টিম এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পেজগুলোর তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে। কারা পরিকল্পিতভাবে এসব বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়াচ্ছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমি এরই মধ্যে পুলিশের সাইবার অপরাধ বিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাকে সাধারণ ডায়েরি করার পরামর্শ দিয়েছেন। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এভাবে ছাড় দেওয়ার কোনো মানে হয় না।’
শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গেই নয়, বিষয়টি নিয়ে সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এই অভিনেতা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জাহিদ হাসান বলেন, ‘একজন শিল্পী, খেলোয়াড়, কবি, সাহিত্যিক কিংবা রাজনীতিবিদ তৈরি হতে বছরের পর বছর সময় লাগে। তাদের কোনো বক্তব্য বা ব্যক্তিগত মুহূর্তকে বিকৃত করে মানুষের সামনে উপস্থাপন করা শুধু অনৈতিক নয়, এটি গুরুতর অপরাধ। প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য, কিন্তু সেটিকে ব্যবহার করে কারও সম্মানহানি করার অধিকার কারও নেই।’