রবিবার, জুলাই ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক অস্কার জয়ী অভিনেত্রী ক্যাথরিন হেপবার্নের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক অস্কার জয়ী অভিনেত্রী ক্যাথরিন হেপবার্নের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক অস্কার জয়ী অভিনেত্রী ক্যাথরিন হেপবার্নের মৃত্যুবার্ষিকী

বলিষ্ঠ চিবুক, তীক্ষ্ণ চোখ, ক্ষিপ্র স্বর — চুল ছোট রাখতেন বলে কেউ কেউ তাকে পুরুষ ভাবতে ভুল করতেন। কিন্তু অভিনয়ে তিনি ছিলেন একশো ভাগ নারী — জেদি, স্বাধীনচেতা, আত্মবিশ্বাসী, দুর্দমনীয়। সেই সময়েও নারীর ক্ষমতায়নের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন ক্যাথারিন হেপবার্ন, যখন হলিউডে পুরুষতান্ত্রিক বৃত্ত ভাঙার সাহস কম মানুষই দেখাতেন।

অস্কারের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল অভিনেত্রী তিনি। একমাত্র অভিনেত্রী হিসেবে ৪ বার সেরা অভিনেত্রীর অস্কার জয় করেছেন — যা আজও কেউ ছুঁতে পারেননি।
১২ বার মনোনয়ন, আর প্রায় ৬ দশক ধরে চলচ্চিত্র জগত দাপিয়ে বেড়ানো এই কিংবদন্তি একাই যেন একটি প্রতিষ্ঠান।

বাবা ছিলেন ইউরোলজিস্ট, মা নারী অধিকার আন্দোলনের কর্মী — এমন এক প্রগতিশীল পরিবারে তার বেড়ে ওঠা।
পড়াশোনা: ব্রিন মার কলেজ, সেখানেই অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসার শুরু।
অভিনয়ের হাতেখড়ি: মঞ্চে। পরবর্তীতে হলিউড।
১৯৩২ সালে ‘আ বিল অফ ডিভোর্সমেন্ট’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক, এরপর ১৯৩৩ সালে “মর্নিং গ্লরি” এবং “লিটল ওমেন” দিয়ে সাফল্যের শীর্ষে।
“মর্নিং গ্লরি” দিয়েই প্রথম অস্কার জয়!
এরপর...—
“গেস হু ইজ কমিং টু ডিনার” (১৯৬৭)
“দ্যা লায়ন ইন উইন্টার“(১৯৬৮)
“অন গোল্ডেন পণ্ড” (১৯৮১) — প্রতিটিই তাকে এনে দিয়েছে অস্কার।


আশ্চর্যের বিষয়, তিনি একবারও অস্কার মঞ্চে উপস্থিত হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেননি।
৬৬ বছরের ক্যারিয়ারে: ৪৪টি চলচ্চিত্র, ৮টি টেলিফিল্ম, ৩৩টি মঞ্চনাটক, ১২ বার অস্কার মনোনয়ন, ৪ বার অস্কার জয়,  অসংখ্য সম্মান ও স্বীকৃতি।


১৯৯৯ সালে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট তাকে "সর্বকালের সেরা মহিলা আমেরিকান চলচ্চিত্র তারকা" উপাধিতে ভূষিত করে।
মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি একবার বলেছিলেন,
"আমার মৃত্যু ভয় নেই। মৃত্যু নিশ্চয়ই খুব চমকপ্রদ হবে গভীর নিদ্রার মত।"
২০০৩ সালে, ৯৬ বছর বয়সে জীবনের মঞ্চ থেকে চিরবিদায় নেন তিনি।

ক্যাথারিন হেপবার্ন শুধু একজন অভিনেত্রী নন, তিনি এক আন্দোলন — নারীর আত্মবিশ্বাস, স্বাধীনতা আর শক্তির এক অনবদ্য প্রতীক। তাঁর রেখে যাওয়া পথ আজও অনুপ্রেরণা হয়ে আছে সব সৃজনশীল নারীর জন্য।