দিনাজপুরের হিলিতে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে আটকে রাখা জীবনেন্দ্রনাথ সরকার নামে এক যুবককে ৩৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে মামলার আরও চার আসামি এখনো পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড়ে অবস্থিত ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংক এলাকা থেকে অপহৃত জীবনেন্দ্রনাথ সরকারকে উদ্ধার করেছে হাকিমপুর থানা পুলিশ। উদ্ধার হওয়া জীবনেন্দ্রনাথ সরকার হিলির চন্ডিপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মনীন্দ্রনাথ সরকারের ছেলে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপাড়া গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে ইউসুফ আলী (২৮) এবং বিরামপুর উপজেলার ইসলামপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মোজাম্মেল হোসেন (৪৫)। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজনকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, জীবনেন্দ্রনাথ সরকারের বাবা মনীন্দ্রনাথ সরকার থানায় অভিযোগ করেন যে, গত ৩০ তারিখ সন্ধ্যার পর থেকে তার ছেলেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জীবনেন্দ্রনাথ হিলির চারমাথা মোড়ে অবস্থিত ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় কর্মরত ছিলেন এবং ঘটনাক্রমে ওই প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
তিনি আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে দোকানের শাটার খুলে ভেতর থেকে নিখোঁজ জীবনেন্দ্রনাথ সরকারকে উদ্ধার করে। এ সময় তাকে পাহারারত অবস্থায় থাকা ইউসুফ ও মুকুল নামে দুই ব্যক্তিকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া জীবনেন্দ্রনাথ সরকার পুলিশকে জানান, হিলির মাঠপাড়া এলাকায় মন্তাজ নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তাকে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ১৮ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দেওয়ায় তাকে মারধর ও হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে তিনটি ফাঁকা চেক এবং ১০০ টাকা মূল্যমানের ছয়টি স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর ও টিপসই নেওয়া হয়। পরে তাকে হিলির ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং অফিসে আটকে রাখা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার ভিকটিমকে জবানবন্দি দেওয়ার জন্য বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং গ্রেফতার দুই আসামিকেও আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ মামলায় এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মালিক, তার ভাই, বাবা ও শ্বশুরসহ আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফারহান ইসলাম হিলি ও পাঁচবিবি প্রতিনিধি :
