তীব্র তাপপ্রবাহে হাঁসফাঁস অবস্থা বিরাজ করছে জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে। প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা, আর সেই সঙ্গে বেড়েছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
দুপুরের প্রখর রোদে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। এতে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল ও যানবাহনের সংখ্যা কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও পড়েছে এর নেতিবাচক প্রভাব।
ভ্যানচালক সুমন হোসেন বলেন, সকাল থেকেই তেমন কোনো যাত্রী পাচ্ছি না। প্রচণ্ড গরমে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। তীব্র তাপের কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এতে আমাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।
রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন,দুপুরে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। গরমে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হচ্ছে। আগে সারাদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা ইনকাম করলে বর্তমান কমে তা ২৫০ থেকে ৩০০ হচ্ছে।
স্থানীয় গৃহিণী রুবিনা খাতুন বলেন, ঘরের ভেতরেও গরমে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি।
সাংবাদিক ইদ্রিস আলী বলেন, তীব্র গরমের মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আমাদের নিয়মিত মাঠে নেমে সংবাদ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। প্রচণ্ড রোদ ও গরমে কাজ করতে বেশ কষ্ট হলেও পাঠকদের কাছে সঠিক ও দ্রুত তথ্য পৌঁছে দিতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
পাঁচবিবি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামীম মোহাম্মদ বলেন, প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে সবাইকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং নিয়মিত খাবার স্যালাইন গ্রহণ করতে হবে। কোনো ধরনের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রোদে বের না হওয়াই ভালো। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের প্রতি অতিরিক্ত যত্নশীল হতে হবে, কারণ তারা তাপজনিত বিভিন্ন রোগে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।
ফারহান ইসলাম
হিলি ও পাঁচবিবি প্রতিনিধি
