অজয় সেন ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি:পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৫ বছর মেয়াদী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৫ জুলাই (রবিবার) খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গনে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মাঝে ‘করলিয়া প্রকল্প’ থেকে বিভিন্ন প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ওষুধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পার্বত্য জেলা পরিষদ ও করলিয়া প্রকল্পের যৌথ আয়োজনে এবং ইউএনডিপির ইআরআরডি-সিএইচটি প্রকল্পের সহযোগিতায় এই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।অনুষ্ঠানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের জেলা কর্মকর্তা ও করলিয়া প্রকল্পের সভাপতি নবলেশ্বর দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে আমাদের পরিবেশকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারের এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে আসতে হবে এবং রোপণকৃত চারার সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।"অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইলিয়াস মেহেদী, খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পুলক বরন চাকমা এবং ইউএনডিপি খাগড়াছড়ির জেলা কর্মসূচী বাস্তবায়ন বিশ্লেষক প্রিয়তর চাকমা।
আয়োজকরা জানান, করলিয়া প্রকল্পের আওতায় প্রথম দফায় ১৫টি কমিটির অধীনে থাকা ৪৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে মোট ২১,৮০০টি গাছের চারা বিতরণ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ৬০টি কমিটির ১৮২টি গ্রামেও পর্যায়ক্রমে এই চারা বিতরণ করা হবে। এছাড়া পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী ৭ই জুলাই দীঘিনালা এবং রামগড় সীমান্ত সড়কে চারা রোপণ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
আলোচকরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই চারাগুলো একদিকে যেমন পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল করতে সাহায্য করবে। অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপকারভোগী সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
