দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া সফর এবং দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ইতিবাচক ফল হিসেবে এ সিদ্ধান্ত এসেছে। সরকারের আশা, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই স্বল্প বা বিনা অভিবাসন ব্যয়ে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়। এবার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার পরিবর্তে বাংলাদেশ সরকার নিজেই রিক্রুটিং এজেন্সি নির্বাচন করবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অতীতের সিন্ডিকেট, অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্নীতির প্রবণতা অনেকাংশে কমে আসবে এবং কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রমবাজার চালুর এই সুযোগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং সরকার-রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় অতীতের মতো অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আবারও শ্রমবাজার সংকটের মুখে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের ইতিহাসে একাধিকবার স্থবিরতা দেখা গেছে। ২০০৮ সালে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পর ২০১৬ সালে তা পুনরায় চালু হয়। পরে ২০১৮ সালে আবারও বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া স্থগিত করে মালয়েশিয়া। পরবর্তীতে ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো পুনরায় শুরু হলেও ২০২৪ সালের ১ জুন আবারও শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন শর্ত ও আইনি বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকে।
এদিকে, ২০২৪ সালে মালয়েশিয়ায় যেতে না পারা ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে পাঠানোর দায়িত্ব সরকারি সংস্থা বোয়েসেলকে দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে সক্ষম হয়েছেন। অবশিষ্ট কর্মীদের দ্রুত পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, নতুন ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান আরও সম্প্রসারিত হবে। এর ফলে একদিকে যেমন হাজারো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে দেশের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এস এম আশরাফী বুলবুল
