দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতিতে নির্বাচিত নেতৃত্ব ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচন। কিন্তু সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের দুই আলোচিত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের পর নির্বাচন ঘিরে আবারও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রতি প্রকাশিত বৈধ প্রার্থীর তালিকায় সভাপতি পদপ্রার্থী খোরশেদ আলম খসরু এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সামসুল আলমের মনোনয়ন বাতিল করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে তারা নির্বাচন আপিল বোর্ডের কাছে আপিল করেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে নির্বাচনের তফসিলেও প্রভাব পড়তে পারে।
দীর্ঘদিনের প্রশাসকনির্ভর সমিতি
চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশকদের শীর্ষ এই সংগঠনটি দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত নেতৃত্বের পরিবর্তে প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ভোটার তালিকা, গঠনতন্ত্র এবং আইনি জটিলতার কারণে প্রতিবারই প্রক্রিয়া থমকে গেছে। ফলে কার্যকর নেতৃত্বের অভাবে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও দীর্ঘদিন ঝুলে রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। এরপর নতুন নির্বাচন আয়োজনের একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। সমিতির নির্বাচন নিয়ে সবচেয়ে বড় বিরোধ তৈরি হয় ভোটার তালিকা এবং ভোটাধিকারকে কেন্দ্র করে। আগে একজন প্রযোজক একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করলে ‘আমমোক্তারনামা’র মাধ্যমে অতিরিক্ত ভোটাধিকার পেতেন। সমিতির একাংশ দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছিল। ২০২২ সালের ২১ মে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও ভোটগ্রহণের দিন হাইকোর্টের নির্দেশে তা স্থগিত হয়ে যায়। একই টিআইএনের আওতায় একাধিক ব্যক্তি ভোটার হওয়ার অভিযোগে আদালত নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নের নির্দেশ দেন। এরপরও বিরোধের অবসান হয়নি।