কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বরের গাড়ি আটকে হামলা, ভাঙচুর ও নববধূকে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের ঘটনায় আতিকুর রহমান মিয়াদ (২৪) নামে এক যুবকের নাম উঠে এসেছে। তিনি হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মী বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূ তামান্না আক্তারকে নিয়ে বর ও স্বজনরা মাইক্রোবাসযোগে বরের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল যুবক গাড়িটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় তারা গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে নববধূ তামান্না আক্তারকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন বরপক্ষের লোকজন।
অভিযোগ রয়েছে, আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন যুবক এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নববধূ তামান্না আক্তারের সঙ্গে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের পূর্বপরিচয় ও কথিত প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, বিষয়টি পুলিশ জানতে পেরেছে। মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ স্থানীয় ছাত্রদলের কর্মী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাংগঠনিকভাবেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, গত ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে আতিকুর রহমান মিয়াদের ডিউটি পাস পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তার ডিউটি পাসের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নববধূর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বদরুজ্জামান ভূঁইয়া সোহাগ
হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।