বাংলা চলচ্চিত্রের এক প্রবাদপ্রতিম অভিনেতা ব্ল্যাক আনোয়ার-এর জন্মবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা। মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—তিন অঙ্গনেই তাঁর ছিল সমান স্বচ্ছন্দ ও শক্তিশালী উপস্থিতি। অভিনয় দক্ষতা, ব্যক্তিত্ব এবং মানবিক গুণাবলীর জন্য তিনি আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয়।
১৯৪১ সালের ১০ জুলাই ঢাকার সূত্রাপুরে তাঁর জন্ম। তাঁদের পৈত্রিক নিবাস ছিল নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায়। তাঁর পিতা সোনা মিয়া ছিলেন বাংলাদেশের প্রাচীন চলচ্চিত্র অঙ্গনের একজন সুপরিচিত অভিনেতা। পরিবারে শিল্পচর্চার পরিবেশ ছিল বলেই ছোটবেলা থেকেই ব্ল্যাক আনোয়ার নাটক, আবৃত্তি ও অভিনয়ের প্রতি গভীর অনুরাগী হয়ে ওঠেন। তাঁর বোন রেহানা জলিও চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের একজন পরিচিত অভিনয়শিল্পী ছিলেন।
স্কুলজীবনেই মঞ্চনাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁর শিল্পীজীবনের সূচনা। পরবর্তীকালে তিনি মঞ্চ থেকে চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। ষাটের দশকে 'সুয়োরানী দুয়োরানী' চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে অসংখ্য বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সুয়োরানী দুয়োরানী, জীবন থেকে নেয়া, অনন্ত প্রেম, অশান্ত ঢেউ, স্বাক্ষী, সৎ ভাই, রাজা সাহেব, ব্যথার দান, এবং কাবুলিওয়ালা। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি অভিনয়ের স্বতন্ত্রতা ও বাস্তবতা তুলে ধরেছিলেন।
১৯৮৯ সালে 'ব্যথার দান' চলচ্চিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এটি তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্মান। তাঁর শেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ছিল 'কাবুলিওয়ালা'।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন বিনয়ী, সজ্জন ও সহৃদয় মানুষ। সহকর্মীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত আন্তরিক ও সহযোগিতাপরায়ণ। শিল্পের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তাঁকে একজন প্রকৃত শিল্পীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে।
২০০৭ সালের ১০ নভেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কিন্তু একজন সত্যিকারের শিল্পীর মৃত্যু হয় না। তাঁর অভিনীত অসংখ্য চরিত্র, সংলাপ এবং সৃষ্টিশীল অবদান আজও বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
শ্রদ্ধাঞ্জলি।
বাংলা চলচ্চিত্রের এই গুণী অভিনেতার প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা।
"প্রকৃত শিল্পীরা কখনো হারিয়ে যান না—তাঁরা তাঁদের সৃষ্টি, কর্ম এবং দর্শকের ভালোবাসায় চিরকাল বেঁচে থাকেন।"