টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে আবারও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। এতে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
জেলা শহরের ইসলামপুর, আর্মিপাড়া, শেরেবাংলা নগর, ব্রিগেড এলাকা, বালাঘাটার আমবাগান, ক্যাচিংঘাটা, হাফেজঘোনা এবং নদীতীরবর্তী আরও কয়েকটি নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে, পাহাড় ধসের কারণে বান্দরবান-রুমা, বান্দরবান-রোয়াংছড়ি এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে এসব এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে জেলার বিভিন্ন স্থানে এখনও পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। এতে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ইতোমধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি বন্যাকবলিত মানুষ এসব আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
বান্দরবান সদর জোনের সেনাবাহিনীর সদস্যরা বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা এবং দুর্গত মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন।
এছাড়া বান্দরবান পৌরসভার উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের মধ্যে শুকনা খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও মশার কয়েল বিতরণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর মোবাইল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের মাধ্যমে বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। ভ্রাম্যমাণ ইউনিটের মাধ্যমে পুকুরের পানি বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিশোধন করে দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বান্দরবান প্রতিনিধি
হামিদুর রহমান
