পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রামাণিক পাড়া এলাকায় বাদীর বাড়ির সামনের রাস্তায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোরা, লোহার রড, বল্লম, মাছমারা খোঁচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় নারী ও কিশোর-কিশোরীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন মো. তোফাজ্জল হোসেন(৩৭)।
এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে মো. এরশাদুল (৩৫), মো. খাদিমুল (২৫), মো. একরামুল (৩০), মো. আশরাফুল (৩২), মো. আনারুল (৪০), মো. রহিম (৫৫), মোছা. খাদেলা (৫০), মোছা. আছমা (৩০), মো. খাদিজা (২৫), মোছা. রুপালি (২৪), মোছা. জেসমিন (২৩), মো. আজমত (৪০) ও মোছা. রিনা (২৫)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুলাই ২০২৬ রাত আনুমানিক ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে এ হামলার ঘটনা ঘটে। জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় তোফাজ্জল হোসেন বাড়ি থেকে বের হলে অভিযুক্তদের কয়েকজন তাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে মুখ চেপে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা এগিয়ে এলে শুরু হয় এলোপাতাড়ি হামলা।
এ সময় মো. আমিরুলের মেয়ে মোছা. আঁখি (১৬)-এর ওপর এরশাদুলসহ অন্যরা হামলা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। আঁখির মুখে ইট দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। এতে তার মুখের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং রক্ত জমাট বাঁধে বলে দাবি পরিবারের।
অন্যদিকে মোছা. আমেনা (৩২)-কে হত্যার উদ্দেশ্যে এজাহারের ৫ নম্বর আসামি মো. আনারুল ছোরা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আমেনা সরে গিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে ছোরার কোপ তার ডান হাতে লাগে। এতে তার ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা এখানেই থামেনি। এক কিশোরের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এছাড়া বুকের ওপর চড়ে বসে গলা চেপে এবং কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীদের হাতে ছিল ছোরা, লোহার রড, বল্লম, মাছমারা খোঁচ ও লাঠি। এসব অস্ত্র দিয়ে নারী ও কিশোর-কিশোরীসহ পরিবারের সদস্যদের এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। যাওয়ার সময় থানায় অভিযোগ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে তেঁতুলিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
ঘটনার অনুসন্ধানে তথ্য সংগ্রহের জন্য অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে এজাহারে ওঠা গুরুতর অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লাইছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এজাহার পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রশ্ন উঠেছে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে এমন সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগের নেপথ্যে কারা? ছোরা, রড, বল্লম ও মাছমারা খোঁচ নিয়ে হামলার অভিযোগ সত্য হলে এত বড় ঘটনার দায় এড়াবে কীভাবে জড়িতরা? ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
মো. মাহাবুব আলম
পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি
