অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন ভারতের দক্ষিণী সিনেমার অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া শিনদোগি। দীর্ঘ দিন ধরে আপত্তিকর পোস্ট ছড়িয়ে অভিনেত্রীর সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন একজন নারী। কয়েক দিন আগে ওই নারীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ঐশ্বরিয়া।
হয়রানি ও মামলার বিষয়টি নিয়ে বেঙ্গালুরু টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন ঐশ্বরিয়া। ‘বিগ বস কন্নড়’-এর প্রাক্তন এই প্রতিযোগী বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বলছি—২০২৪ সালে ‘বিগ বস’ থেকে ফেরার পরই এসব শুরু হয়েছে। ওই নারী একসময় আমার গাড়ির পিছু নিয়েছিলেন, যার সিসিটিভি ফুটেজও রয়েছে। তখন আমরা বিষয়টি আর বাড়াইনি। তার শ্বশুর হস্তক্ষেপ করেছিলেন, তার একটি পরিবারও আছে। কিন্তু এরপরও অনলাইনে আমাকে হয়রানি করতেই থাকে, তবে আমি পাত্তা দিইনি। সম্প্রতি তার এই নোংরা আচরণ আমার পেশাগত জীবনেও প্রভাব ফেলছে। তারপরই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”
অভিযুক্তর ‘আপত্তিকর’ কার্যক্রম ব্যাখ্যা করে ঐশ্বরিয়া বলেন, “ওই নারী সোশ্যাল মিডিয়ায় ২০টির বেশি ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলেছেন। শুধু আমাকে টার্গেট করে এগুলো খোলা হয়েছে। কেবল তাই নয়, আমার প্রোফাইল, আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু শিশিরের প্রোফাইল এবং আমার অন্য বন্ধুদের পেজে গিয়েও নিয়মিত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমাকে বিভিন্ন ডিজিটাল প্রচার ও ব্র্যান্ড উদ্বোধনের কাজে অংশ নিতে হয়। কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল পেজে তার নেতিবাচক মন্তব্য আমার কাজের ওপরও প্রভাব ফেলছে।”
অভিযুক্ত নারী ঐশ্বরিয়ার পরিচিত। এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ছদ্মবেশ ওই নারী (অন্যের নাম ব্যবহার করে) অশালীন ভাষায় মন্তব্য করেন। আমার ব্যক্তিগত এমন কিছু তথ্য প্রকাশ করেছেন, যা কেবল আমার ঘনিষ্ঠরাই জানেন। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, অভিযুক্ত নারী আমার পরিবারের পরিচিত। তার মা আমার প্রয়াত মায়ের বন্ধু ছিল। আমার বিশ্বাস, শুধুই হিংসা ও ঈর্ষা থেকে এমন আচরণ করা সম্ভব। আমি এসব তথ্য পুলিশের কাছে দিয়েছি। এখন তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় আছি।”
ঐশ্বরিয়াকে হয়রানির খবর প্রকাশ্যে আসার পর, অভিনেত্রীর পোশাক নিয়েও কটাক্ষ করছেন নারীরাই। এ তথ্য উল্লেখ করে ঐশ্বরিয়া বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই হয়রানির খবর প্রকাশ্যে আসার পর অনেক নারীই মন্তব্য করেছেন—‘ভালোভাবে পোশাক পরলে এসব হতো না।’ আমি তাদের বলতে চাই, দয়া করে পোশাককে এই আলোচনায় টেনে আনবেন না। দেখুন, এর পেছনে কী ধরনের মানসিকতা কাজ করছে। এটি বুলিং, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং কারো সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা।”