স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অগ্রণী সৈনিক সৈয়দ হাসান ইমাম-এর ৯০তম জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা, অফুরান ভালোবাসা ও ফুলেল শুভেচ্ছা।
১৯৩৫ সালের ২৭ জুলাই ভারতের বর্ধমানে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই কাটে তাঁর শৈশব। বাবা সৈয়দ সোলেমান আলী ছিলেন একজন আয়কর কর্মকর্তা। মাত্র দুই বছর বয়সেই বাবাকে হারান হাসান ইমাম।
তিনি পড়াশোনা করেন বর্ধমান টাউন স্কুল, রাজ কলেজ (১৯৫২–১৯৫৪), এবং কলকাতার টেকনিক্যাল কলেজে (১৯৫৪–১৯৫৭)। ১৯৫৭ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন এবং ছাত্র জীবনেই সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
১৯৬৯-এর গণআন্দোলনে শিল্পী সমাজের পক্ষে গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন হাসান ইমাম। ১৯৭১ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে হাসান ইমামকে আহ্বায়ক করে গঠিত হয় শিল্পীদের প্রতিবাদী সংগঠন বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজ যারা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পাকিস্তান বেতার ও টেলিভিশনের অনুষ্ঠান বর্জন করেন। গণআন্দোলনের চাপে পাকিস্তানী সরকার ৮ মার্চ থেকে বেতার টেলিভিশনের দায়িত্ব বিক্ষুব্ধ শিল্পী সমাজের হাতে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। ২৫ মার্চের পর হাসান ইমাম মুজিব নগরের চলে যান এবং মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়ে ১৯৭১-এ স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্রের নাট্য বিভাগের প্রধানের দায়িত্বে নিযুক্ত হন। সৈয়দ হাসান ইমাম মুজিবনগর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে সালেহ আহমেদ নামে বাংলা সংবাদ পাঠ করতেন।
হাসান ইমাম ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত সংবাদ পাঠ এবং নাট্য বিভাগের দায়িত্বভার বহন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় জহির রায়হানকে সভাপতি ও হাসান ইমামকে সাধারণ সম্পাদক করে মুজিব নগরে চলচ্চিত্র শিল্পী ও কলাকুশলী সমিতি গঠন করা হয় যাদের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র দলিল 'লেট দেয়ার বি লাইট' নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী প্রতিষ্ঠায় হাসান ইমাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সৈয়দ হাসান ইমাম বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতের পথিকৃৎ। নাটক, চলচ্চিত্র, আবৃত্তি—সব মাধ্যমেই তাঁর অবিস্মরণীয় অবদান রয়েছে। তিনি অভিনয়ের জন্য একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং সাংবাদিক সমিতির পুরস্কার অর্জন করেছেন।
সম্মান ও পুরস্কার:
একুশে পদক
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও পরিচালক)
সিকোয়েন্স পুরস্কার (মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য)
এবং বহু আন্তর্জাতিক সম্মাননা
আজ এই মহান শিল্পী, সংগ্রামী ও দেশপ্রেমিক মানুষটির ৯০তম জন্মদিনে তাঁকে জানাই আমাদের কৃতজ্ঞতা ও অন্তরের গভীর শ্রদ্ধা।
তাঁর জীবন, কর্ম ও সংগ্রাম—সবই আমাদের অনুপ্রেরণা। জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও সশ্রদ্ধ অভিবাদন