একটুখানি পেছনে ফিরে তাকালে ১৯৮১ সালের সেই দিনগুলোর কথা আজও চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মুম্বাই নামের এই বিশাল ও অচেনা শহরে যখন প্রথম পা রেখেছিলাম, তখন পকেটে সম্বল বলতে ছিল বুকভরা স্বপ্ন আর মনে অগাধ বিশ্বাস, আর সঙ্গে ছিল মোটে একটা স্যুটকেস। বয়স তখন মাত্র ২৫, সিমলা থেকে আসা এক সাদাসিধে তরুণ।
অপরিচিত এই শহরটার গতি দেখে প্রথম প্রথম ঘাবড়ে যাওয়ার উপক্রম হতো। মনে হতো, এই বিশাল সমুদ্রের মাঝে এক ফোঁটা পানির মতো আমি কতটা তুচ্ছ! চারপাশের সবাই যেন বড্ড আত্মবিশ্বাসী, আর শহরের রাস্তাগুলো ছুটে চলেছে আমার স্বপ্নের চেয়েও বহুগুণ দ্রুত গতিতে। সেদিনের সেই সংগ্রামের দিনগুলোতে অদ্ভুত কিছু বা হীনম্মন্যতাও তাড়া করে বেড়াত। অল্প বয়সে চুল পেকে যাওয়া বা চুল পড়ে যাওয়ার মতো তুচ্ছ বিষয়গুলো নিয়ে তখন বেশ ভুগেছি।
মনে একটা ছটফটানি কাজ করত লোকে কি আমার অভিনয় বা প্রতিভা দেখার আগে আমার মাথার এই চুল দেখবে? তবে সেই শঙ্কাগুলো যখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠত, নিজেকে একটাই কথা মনে করিয়ে শক্ত রাখতাম: আমি জানি আমার শিল্প কী, আমি আমার কাজটা ভালোভাবেই পারি। ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা আমার ভেতরে বুঁদে দিয়েছিল সেই আত্মবিশ্বাস, আর জীবন আমাকে শিখিয়েছিল লড়াই করার তীব্র ক্ষুধা।