সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নরেন্দ্র মোদির কুরুচিকর পোস্টার: শ্রীলেখাকে গ্রেপ্তারের দাবি

নরেন্দ্র মোদির কুরুচিকর পোস্টার: শ্রীলেখাকে গ্রেপ্তারের দাবি

নরেন্দ্র মোদির কুরুচিকর পোস্টার: শ্রীলেখাকে গ্রেপ্তারের দাবি


ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছেন ভারতীয় বাংলা সিনেমার আলোচিত অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘কুরুচিকর’ ছবি ব্যবহার করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।  

মূলত, গত ২৪ জুলাই কলকাতায় আন্দোলনে যোগ দেন শ্রীলেখা মিত্র। এ প্রতিবাদে অংশ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির পোস্টার হাতে ছবি তুলেন এই অভিনেত্রী। সেই পোস্টারে প্রধানমন্ত্রীর কুরুচিকর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এরপর কলকাতার আনন্দপুর থানায় শ্রীলেখার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেত্রী কেয়া ঘোষ। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম-সহ একাধিক জেলার বিভিন্ন থানায় এ অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

শ্রীলেখাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে কেয়া ঘোষ বলেন, “এমন কুরুচিকর ছবি ভাগ করার জন্য, শ্রীলেখার বিরুদ্ধে আইনানুসারে যথাযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। এমন কাজের কড়া শাস্তি প্রয়োজন। অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে, না হলে আমরা আদালতে যাব।” 

বিষয়টি নিয়ে যখন জোর চর্চা চলছে, তখন নীরবতা ভেঙেছেন শ্রীলেখা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক ভিডিওবার্তা এই অভিনেত্রী বলেন, “আমার পক্ষ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ সকাল থেকে মানুষ আমাকে এত এত ফোন করেছেন, তারা জানার চেষ্টা করেছেন। মিডিয়া থেকেও যোগাযোগ করেছে। সুতরাং আমার পক্ষ থেকেও বিষয়টি জানানো উচিত।”  


নরেন্দ্র মোদির ‘কুরুচিকর’ পোস্টার প্রসঙ্গে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “আমি বিশেষ একটি পোস্টার ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছি, সেই ছবি ভাইরাল করা হয়েছে। ছবিটা দেখলেই আপনারা বুঝতে পারবেন, কী, কেন! আমি যতই বিজেপি বিরোধী, মোদি বিরোধী হই, সেখানে আমাকে দেশদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হাস্যকর ব্যাপার। আমি ইচ্ছা করে ওই ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি, এটাও যদি কেউ মনে করে তবে সেটাও হাস্যকর। পেটে তো একটু শিক্ষা-দীক্ষা আছে। দিল্লি থেকে পোস্টারিংটা হয়েছে।” 

খানিকটা ব্যাখ্যা করে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “আন্দোলনে লাখ লাখ ছেলে-মেয়ের মধ্যে ঘামের গন্ধ, মাঠে দাঁড়িয়ে যে বিপ্লব, ওইরকম একটা আন্দোলন, সেখানে যখন লাঠিচার্জ করা হয়, তখন অন্য ছাত্র-ছাত্রীদের মতো আমিও দৌড়েছি। এটা আমার জীবনের প্রথম অভিজ্ঞতা। অনেক মিটিং-মিছিল, সভায় গিয়েছি, অনেক কিছু করেছি। কিন্তু এই অভিজ্ঞতা আগে হয়নি। ওই ভিড়ের মধ্যে, ওইটুকু পোস্টারে মোদিজির বেল্টের নিচের দিকে চোখ যায়নি।”


নরেন্দ্র মোদির পোস্টার হাতে ছবি তোলার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “কতগুলো ছেলে পোস্টার নিয়ে আসছিল ছবি তুলতে। পোস্টারটি আমি দেখিওনি। কেবল পোস্টার হাতে নিয়ে ছবি তুলেছি। কারণ পুলিশের লাটিচার্জ চলছিল, দেখার মতো সময় হাতে ছিল না।”  

অনেকটা রসিকতার ছলে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “প্রথম দৃষ্টিতে মেয়েরা ছেলেদের শরীরের নিচের দিকে তাকায় না। বলে দিচ্ছি, এরপর থেকে আগে পুরুষদের শরীরের নিচের দিকে তাকাব, তারপর তার চোখের দিকে।”

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়ে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, “আমি শুনছি, আমার নামে অনেক কিছু হচ্ছে, আমাকে জরুরিভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীকে বলছি, আপনার ব্যক্তিগত সহকারীর মৃত্যু হয়েছে, আগে এই অপরাধীদের কড়া শাস্তি দিন। তারপর যারা ঐতিহাসিক আন্দোলনের অংশ হতে পেরে নিজেদের ধন্য মনে করছেন, তাদের শাস্তি দিন।” 


শ্রীলেখার বিরুদ্ধে এখনো মামলা দায়ের হয়নি। প্রাথমিক তদন্তের পর ঠিক হবে—মামলা দায়ের হবে কি হবে না। এখন পর্যন্ত ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উস্কানি), ৩৫৩ (উস্কানিমূলক আচরণে প্রকাশ্যে সমর্থন) ও ৩৫৬ (মানহানি) ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।