দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে দিনে দুইবার ব্রাশ করা খুবই জরুরি। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন অনেক কার্যকলাপ দাঁতের সুস্থতার ওপর সমানভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন কিছু অভ্যাস আছে যা আপনার অজান্তেই দাঁতের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। ভারতীয় অর্থোডন্টিস্ট ডা. জাইনীল পারেখ ‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে নানা তথ্য জানিয়েছেন।
সারাদিন ধরে চিনিযুক্ত বা অ্যাসিডিক পানীয় পান করা
আপনি কী পরিমাণ চিনি গ্রহণ করছেন শুধু সেদিকেই নয়, বরং কত ঘন ঘন এর সংস্পর্শে আসছেন সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। কোমল পানীয়, বোতলজাত ফলের রস, ফ্লেভারযুক্ত কফি, শক্তিবর্ধক পানীয়, আইসড টি আপনার দাঁতকে বারবার এমন অ্যাসিডের সংস্পর্শে আনতে পারে যা এনামেল ক্ষয় করে এবং দাঁতের স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
যদি খাওয়া বাদ দিতে না পারেন তাহলে সারাদিন ধরে এসব অ্যাসিডিক পানীয় পান করার পরিবর্তে, একবারে পান করে পানি দিয়ে কুলিকুচি করে ফেলুন। এতে আপনার দাঁত এই পানীয়গুলোর অ্যাসিডের সংস্পর্শে কম সময় থাকবে।
মানসিক চাপে থাকলে দাঁত কিড়মিড় করা
অনেকেই ঘুমের মধ্যে অজান্তেই দাঁত কিড়মিড় করেন বা দাঁতে দাঁত চেপে ধরেন। এটি সাধারণত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সাথে সম্পর্কিত। এই অভ্যাসটি ধীরে ধীরে এনামেল ক্ষয় করতে পারে। সেই সাথে এই অভ্যাস চোয়ালে ব্যথা, মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দাঁত ভেঙেও যেতে পারে।
ঘুম থেকে ওঠার পর যদি আপনি চোয়ালে ব্যথা বা দাঁতে সংবেদনশীলতা অনুভব করেন, তবে আপনার একজন দাঁতের চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা উচিত।
নাকের পরিবর্তে মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া
যদিও মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া প্রথম নজরে ক্ষতিকর বলে মনে হয় না, কিন্তু এই অভ্যাস মুখে লালার উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে মুখ শুষ্ক মনে হয়। মুখ থেকে ব্যাকটেরিয়া এবং অ্যাসিড দূর করতে লালা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যালার্জি, নাক বন্ধ থাকা বা ঘুম-সম্পর্কিত সমস্যার কারণে মুখ শুকিয়ে গেলে তা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
দাঁতকে সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করা
অনেকেরই দাঁত দিয়ে বোতল খোলা, প্যাকেট ছেঁড়া, নখ কামড়ানো,পেন্সিল চিবানোর অভ্যাস আছে। এসব অভ্যাস দাঁতের উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি করে। সময়ের সাথে সাথে, এগুলো আপনার দাঁতের এনামেল ক্ষয় করতে পারে, ছোট ছোট ফাটল তৈরি করতে পারে এবং এমন দাঁতের বড় সমস্যার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সারাদিন ধরে ক্রমাগত হালকা খাবার খাওয়া
প্রতিবার খাওয়ার সময় আপনার মুখের ব্যাকটেরিয়া অ্যাসিড তৈরি করতে শুরু করে যা আপনার দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করে। ঘন ঘন হালকা খাবার খেলে আপনার দাঁতের উপর অ্যাসিডের আক্রমণ বেড়ে যায়, ফলে দাঁত সেরে ওঠার জন্য খুব কম সময় পায়। আপনি যদি হালকা খাবার খেতে ভালোবাসেন, তবে কত ঘন ঘন খাবেন তা সীমিত করুন। যখনই সম্ভব স্বাস্থ্যকর বিকল্প বেছে নিন।
মুখের স্বাস্থ্যবিধির যত্ন নেওয়া কেবল ব্রাশ করা এবং ফ্লস করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ডা. জাইনীল পারেখের মতে, আপনার দৈনন্দিন রুটিনে ছোট ছোট পরিবর্তন আনলে আপনাকে ভবিষ্যতে দাঁতের সমস্যা থেকে রক্ষা করতে অনেক সাহায্য করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, দাঁত সঠিকভাবে ব্যবহার করা, এমনকি সঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া—এই সবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
