দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অন্যতম কিংবদন্তি প্লেব্যাক গায়িকা যমুনা রানি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ভারতের বেঙ্গালুরুতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। খবর ইন্ডিয়া টুডের।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম, সিংহলিসহ অনেক ভাষার চলচ্চিত্রে ৬ হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। লোকসংগীতঘেঁষা গায়কি, আবেগময় কণ্ঠ, অসাধারণ তালবোধের জন্য ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন এই সংগীতশিল্পী।
পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের সবচেয়ে পরিচিত প্লেব্যাক গায়িকাদের অন্যতম ছিলেন যমুনা রানি। গত শতকের আশির দশক পর্যন্ত নিয়মিত গান গেয়েছেন। পরবর্তীতে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা ইন্ডাস্ট্রিতে আধিপত্য বিস্তার করলেও, তার গান প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে।
যমুনা রানি
যমুনা রানির গাওয়া সবচেয়ে স্মরণীয় তামিল গানগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘দেইভাপিরাভি’ চলচ্চিত্রের ‘কালাই ভাইয়াসু কাট্টানা মানাসু’। একই সিনেমায় ‘সেন্তামিশ থিমোঝিয়াল’-এর হৃদয়স্পর্শী সংস্করণেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন। যদিও টি. আর. মাহালিঙ্গমের গাওয়া সংস্করণটি পরবর্তীতে বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘পাসামা’ সিনেমার ‘পাত্তোনদরে কেত্তেন’, পারভাসাম আলী’ গানও, বিশেষ করে এর স্বতন্ত্র কোরাস ও হামিংয়ের আজও শ্রোতাদের প্রিয়।
কৌতুক অভিনেতা ও গায়ক জে. পি. চন্দ্রবাবুর সঙ্গে তার গাওয়া দ্বৈত গান ‘কুঙ্গুমাপুভে কোঞ্জুম পুর’ আজও নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের আকৃষ্ট করে। এছাড়া লোকসংগীতের আবহে গাওয়া ‘মা মা মা’, চার শিল্পীর কণ্ঠে পরিবেশিত ‘আতিকাই কাই কাই আলাঙ্কাই ভেনিলাভে’ গান দুটি এখনো সমান জনপ্রিয়। এই চার শিল্পীর একজন ছিলেন যমুনা রানি। পি. বি. শ্রীনিবাসের সঙ্গে তার দ্বৈত গান ‘আইতিমানিদেন কাথালুককুপান’ সংগীতপ্রেমীদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।
মাত্র সাত বছর বয়সে তেলুগু ভাষার ‘ত্যাগাইয়া’ সিনেমায় যমুনা রানি প্রথম প্লেব্যাক করেন। জনপ্রিয় ‘দেবদাস’ সিনেমায় ‘ও দেবদাস’ গানের শিশু সংস্করণেও কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি। সে সময় প্লেব্যাক জগতে জিক্কি, পি. লীলা, এম. এল. বাসন্তকুমারী, এম. এস. রাজেশ্বরী ও এ. পি. কোমালার মতো শিল্পীদের দাপট চলছে। তারপরও স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও বহুমুখী প্রতিভার মাধ্যমে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেন যমুনা রানি।