সুমনা হক—এক অনন্য নাম, এক বহুমাত্রিক শিল্পী। যিনি একাধারে চিত্রকর, সংগীতশিল্পী, কণ্ঠস্বরের জাদুকর এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন জগতের "কুইন অব জিঙ্গেল"।
সংগীতে তাঁর যাত্রা:
১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে তালিকাভুক্ত গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কণ্ঠস্বর তখন ছিল টেলিভিশন-রেডিও জুড়ে শত শত জিঙ্গেলের প্রাণ। তিনি মোট চারটি একক অ্যালবাম উপহার দিয়েছেন—
মায়াবি এই রাতে (১৯৮৮)
মাঝে কিছু বছর গেল (২০০০)
তুমি রবে নিরবে (২০০৮)
কিছু স্মৃতি কিছু বেদনা (২০১৫)
তাঁর একমাত্র চলচ্চিত্র প্লেব্যাক:
"মনেতে কি নজরে কি"— বালিকা হলো বন্ধু (১৯৯৪) চলচ্চিত্রে শুভ্র দেবের সঙ্গে যুগল কণ্ঠ।
চিত্রকলায় অসাধারণ অবদান:
সুমনা হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে পেইন্টিংয়ে মাস্টার্স করেন।
১৯৭৭ সালে জয়নুল গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হয় তাঁর একক চিত্রপ্রদর্শনী।
শংকর আন্তর্জাতিক শিশু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় তিনবার পুরস্কারপ্রাপ্ত।
তিনি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, এস. এম. সুলতান এবং ভিনসেন্ট ভ্যান গগ-এর শিল্পকর্মে প্রভাবিত।
ভ্রমণ ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ:
শিল্প ও সংস্কৃতির দূত হয়ে ভ্রমণ করেছেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, অস্ট্রেলিয়া প্রভৃতি দেশে।
পারিবারিক পরিচয়:
জন্ম ১ আগস্ট ঢাকায়। তাঁর পৈত্রিক নিবাস নোয়াখালীর চৌমুহনীতে। পিতা ইপিআইডিসি’র সাবেক অর্থ পরিচালক মরহুম আনোয়ারুল হক। মাতা প্রখ্যাত কবি খালেদা এদিব চৌধুরী।
প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং প্রখ্যাত সাহিত্যিক-সাংবাদিক, বামপন্থি রাজনীতিক শহীদ বুদ্ধিজীবি শহীদুল্লাহ কায়সার তাঁর খালু। অধ্যাপিকা পান্না কায়সার তাঁর খালা।
তাঁর ভাই ইঞ্জিনিয়ার তানভীরুল হক প্রবাল রিহ্যাব এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
সুমনা হকের স্বামী ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মওলা আলী।
প্রশিক্ষণ:
উস্তাদ গোপাল চন্দ্র দাস এবং উৎসব ফুল মোহাম্মদের কাছে শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেন।
একটি নাম, বহু রঙ:
সুমনা হক—একজনই আছেন এদেশে, যাঁর নাম উচ্চারিত হলেই যেন শব্দের মধ্যে সুর ও রঙ মিশে যায়।
তিনি নিজেকে কখনো কণ্ঠে প্রকাশ করেছেন, কখনো তুলির আঁচড়ে। কখনো গানে, কখনো ছবিতে।
জনপ্রিয়তার পেছনে ছোটেননি, বরং সৃষ্টির আনন্দেই তিনি হয়ে উঠেছেন সময়ের সাক্ষ্যবহনকারী এক স্বতন্ত্র শিল্পী।
শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রইলো এই প্রতিভাধর সৃজনশীল নারীর জন্মদিনে।
আপনি যেমন ছিলেন, তেমনি থাকুন শিল্পে, সুরে এবং হৃদয়ে।