ষাট ও সত্তরের দশকে তার কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে অসংখ্য কালজয়ী গান। আজ এই গুণী শিল্পীর জন্মদিনে জানাই গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
শিল্পী মোঃ খুরশীদ আলমের জন্ম জয়পুরহাট জেলার কালাই উপজেলায়। তিন বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় চলে আসেন এবং পুরান ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। সঙ্গীতের প্রতি তার আকর্ষণ ছিল ছোটবেলা থেকেই। চাচা ডা. সাজেদুর রহমানের কাছেই তার গানের হাতেখড়ি। স্কুলজীবনে গানের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া, বন্ধুদের উৎসাহ, আর নিজের অদম্য ইচ্ছাই তাকে বানিয়ে তোলে বাংলা গানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কণ্ঠ।
তিনি নবাবপুর সরকারি হাই স্কুল, আজিমপুর ওয়েস্টিন হাইস্কুল, সরকারি জগন্নাথ কলেজ এবং কলেজ অব মিউজিকে পড়াশোনা করেন।
১৯৬১-৬২ সালে জাতীয় আধুনিক সঙ্গীত প্রতিযোগিতা এবং ১৯৬২-৬৩ সালে জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন।
তার গানের যাত্রা শুরু বাংলাদেশ বেতারে ‘তোমার দু’হাত ছুঁয়ে শপথ নিলাম’ গান দিয়ে।
১৯৬৯ সালে বাবুল চৌধুরীর 'আগন্তক' ছবিতে "বন্দি পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে" গানের মাধ্যমে প্লেব্যাক শুরু করেন। নায়করাজ রাজ্জাকের ঠোঁটে সেই গান গেয়ে রাতারাতি পরিচিতি লাভ করেন।
তিনি কাজ করেছেন সমর দাস ও আজাদ রহমানের মতো কিংবদন্তি সুরকারদের সঙ্গে। শিল্পী হিসেবে পেয়েছেন শ্রোতার ভালোবাসা, তবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি বহুদিন অপেক্ষা করিয়েছে।
অবশেষে ২০১৮ সালে তিনি লাভ করেন একুশে পদক, যদিও তার মতো শিল্পীর প্রাপ্য তারচেয়েও অনেক বেশি।
বাংলা চলচ্চিত্রের যে সময়টিকে "সুবর্ণ যুগ" বলা হয়—সেই সময়ের অগণিত জনপ্রিয় গানের নেপথ্যেই ছিলেন খুরশীদ আলম। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য গানগুলোর মধ্যে রয়েছে:
* “এই মন তোমাকে দিলাম”
* “চোখে চোখে কথা বলে”
* “শুধু গান গেয়ে পরিচয়”
* “তুমি কি দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়”
* “ও নদী রে”
* “সেই যে দূর গাঁয়ে বাজে মাধুরীর বাঁশি”
* “একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়”
পারিবারিক জীবনে তিনি স্ত্রী রীনা আলম ও দুই কন্যা মেহরিন ও মেহনাজ আলমের জনক। এখনো গানই তার ধ্যান-জ্ঞান। অবসর কাটে গান শুনে ও প্রিয় ক্রিকেট দেখে।
আজ তার জন্মদিনে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
আমরা কণ্ঠে আজো শুনি সেই সোনালি দিনের সুর—
“বন্দি পাখির মতো মনটা কেঁদে মরে...”