মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ কিংবদন্তি অভিনেত্রী ট্র্যাজেডি কুইন মীনা কুমারী'র শুভ জন্মদিন

আজ কিংবদন্তি অভিনেত্রী ট্র্যাজেডি কুইন মীনা কুমারী'র শুভ জন্মদিন

আজ কিংবদন্তি অভিনেত্রী ট্র্যাজেডি কুইন মীনা কুমারী'র শুভ জন্মদিন

আজ কিংবদন্তি অভিনেত্রী এবং কবি মীনা কুমারীর জন্মদিন। প্রকৃত নাম মেহজবিন বানো, তবে হিন্দি চলচ্চিত্রে তিনি পরিচিত “ট্র্যাজেডি কুইন” নামে। তাঁর জীবন, যেমন রূপালি পর্দায়, তেমনি বাস্তবেও এক গভীর বেদনার আখ্যান।
মীনা কুমারী (মেহজবিন বানো) - একাধারে অভিনেত্রী এবং কবি। অভিনেত্রী মীনাকুমারীর দিদিমা হেমসুন্দরী ছিলেন জোড়াসাকো ঠাকুর বাড়ির পরিবারের সদস্য। হেমসুন্দরী ছিলেন কবিগুরুর ছোটভাইয়ের মেয়ে। রবীন্দ্রনাথের ভাইঝি হেমসুন্দরী ছিলেন বাল্যবিধবা। হেমসুন্দরী বৈধব্য জ্বালা থেকে অব্যাহতি পেতে খৃস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং বাংলা ছেড়ে মেরঠে চলে যান। সেখানে পেয়ারেলাল নামের এক সাংবাদিক ও গল্পকারকে তিনি পুনর্বিবাহ করেন।

 

তাঁদের এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে যার নাম দেওয়া হয় প্রভাবতী। পরবর্তিকালে সুকন্ঠী প্রভাবতী দেবী সংগীত শিল্পী হওয়ার লক্ষ্যে বোম্বাই যান এবং সেখানে মাস্টার আলি বক্সের সঙ্গে তার আলাপ হয় এই আলি বক্স ছিলেন বিখ্যাত হারমোনিয়াম বাদক এবং সঙ্গীত শিক্ষক, আলি বক্স কয়েকটি সিনেমাতে সংগীত পরিচালনাও করেছিলেন। দুইজনের আলাপ থেকে ঘনিষ্ঠতা এবং প্রভাবতী ধর্মান্তরিত হয়ে ইকবাল বানো নাম গ্রহণ করে আলি বক্সকে বিবাহ করেন।
এই আলি বক্স এবং ইকবাল বানোর প্রথম সন্তান হয় কন্যাসন্তান, আশা ছিল পরের সন্তান হবে পুত্র। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানও কন্যা হওয়ায় হতাশ আলি বক্স শিশুটিকে একটি অনাথ আশ্রমের বারান্দায় রেখে দিয়ে চলে আসেন। কিছুদুর অগ্রসর হওয়ার পর শিশুটির তীব্র কান্নার শব্দ শুনে তিনি ফিরে এসে দেখেন মেয়েটির সারা গায়ে লাল পিঁপড়ে ভর্তি।


অবশেষে আলি বক্সের মায়া হয় এবং মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে এসে আলি এবং ইকবাল দুজনে মিলে ঠিক করেন এই মেয়েকেই তিনি ছেলের মত করে মানুষ করবেন এবং মেয়ের নাম রাখেন মেহজবিন। এই মেহজবিনের জন্ম হয় ১ অগাস্ট, ১৯৩২ (মতান্তরে ১৯৩৩)। 
এদিকে ইকবাল ও আলির আর্থিক অবস্থাও ভাল না, দুজনের রোজগারে কোনরকমে সংসার চলে। তাই যখন মেহজবিনের খেলাধুলা ও বই পড়ার বয়স তখন সে সিনেমায় অডিশন দিতে যায় এবং মাত্র ছ'বছর বয়স থেকে 'বেবি মীনা' নামে শিশু শিল্পী হিসেবে সিনেমায় অভিনয় শুরু করে।
শিশুবয়সে ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখার পর মেহজবিনের নাম পাল্টে হয়- বেবি মীনা। সে সময়ের একাধিক সিনেমায় এই নামেই তাঁকে দেখা যায়। বাড়িতে আবার তাঁর ডাকনাম ছিল ‘মুন্না’। ছেলে আশা করে মেয়ে, সেকারণেই হয়তো এহেন নামকরণ। মেহজবিন পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলেন, চেয়েছিলেন মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতে। শুরুও করেছিলেন। বাধ সাধে শুটিং-এর ব্যস্ততা। বেবি মীনার হাতেই তো তখন গোটা সংসার! প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পর্ব সেখানেই সমাপ্ত হয়। কিন্তু হাল ছাড়েননি। বাড়িতেই শিক্ষক রেখে চলতে থাকে পড়াশোনা। শুটিং ফ্লোরে তাঁর নাম হয়ে গেছিল ‘রিডিং মেহজবিন’, কারণ হাতে সবসময়ই কোনও না কোনও বই দেখা যেত, শুটিং-এর ফাঁকে ফাঁকে পড়তেন। মীনার যখন তেরো বছর বয়স, মুক্তি পায় ‘বাচ্চো কা খেল’। সেই ছবিতেই প্রথম ‘মীনা কুমারী’ নামে আত্মপ্রকাশ। আর তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি 'পাকিজা'র কথা কে না জানে?

 

বিয়ে করেছিলেন পরিচালক কামাল আমরোহীকে। সেই বিয়ে টেকেনি। ১৯৬৪-তে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর একাকীত্ব, নিঃসঙ্গতা, অসুস্থতা আর অ্যালকোহল হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের নিত্যসঙ্গী। ১৯৬৮-তে তিন মাস লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর শহরে ফিরে সঞ্চিত অর্থে বান্দ্রায় বারো তলায় একটি ফ্ল্যাট কেনেন। নাম রাখেন- ‘ল্যান্ডমার্ক’। শেষ তিন বছর সেটাই ছিল মীনার আশ্রয়।
৩১ মার্চ ১৯৭২ তারিখে সিরোসিস অব লিভারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান মীনা কুমারী। তাঁকে সমাধিস্থ করা হয় মুম্বইয়ের রেহমতাবাদ কবরস্থানে।


জীবদ্দশায় যেমন ছিলেন দুঃখিনী রানী, মৃত্যুর পরেও থেকেছেন অনন্য আলোয় উদ্ভাসিত। অভিনেত্রী নার্গিস তাঁর মৃত্যুর পরে শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে এক কবিতায় লিখেছিলেন—
“মীনা, মওত মুবারক হো!
আর কখনও এ পৃথিবীতে ফিরো না।
এ জায়গা তোমার মতো মানুষের জন্য নয়।”
আজ এই ক্ষণজন্মা শিল্পীর জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করি—
জীবন তাঁকে যা দেয়নি, অভিনয় আর কবিতায় তিনি তা ফিরিয়ে দিয়েছেন কোটি হৃদয়ে।