চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় ও নাট্যচর্চার মাধ্যমে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন শক্তিমান চরিত্রাভিনেতা হিসেবে। মঞ্চনাটক থেকে শুরু করে টেলিভিশন নাটক, চলচ্চিত্র এবং নির্মাণ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর শিল্পসত্তার স্বাক্ষর সুস্পষ্ট।
১৯৬০ সালের ১ আগস্ট ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন নাদের চৌধুরী। অভিনয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই ১৯৮৪ সালে তিনি ঢাকা পদাতিক থিয়েটার-এ যোগ দেন। এই নাট্যদলেই তাঁর অভিনয়জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা। দীর্ঘদিনের মঞ্চচর্চা তাঁকে একজন পরিণত ও দক্ষ অভিনয়শিল্পীতে পরিণত করে।
১৯৯১ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অডিশনে উত্তীর্ণ হয়ে তালিকাভুক্ত শিল্পী হিসেবে টেলিভিশনে যাত্রা শুরু করেন। প্রথমদিকে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও ১৯৯২ সালে বিটিভির বহুল জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘বারো রকম মানুষ’-এ ‘লজিং মাস্টার’ চরিত্রে অভিনয় করে তিনি সারা দেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। পরবর্তীতে ‘রূপনগর’ নাটকে তাঁর অসাধারণ অভিনয় তাঁকে দর্শকদের প্রিয় অভিনেতাদের কাতারে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।
মঞ্চনাট্যের প্রতিও তাঁর অবদান অনন্য। তিনি ৫০টিরও বেশি নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন। একজন নাট্যনির্দেশক হিসেবে তাঁর সৃজনশীলতা, মঞ্চভাবনা ও শিল্পদৃষ্টি বাংলা নাট্যাঙ্গনে বিশেষভাবে প্রশংসিত।
চলচ্চিত্রেও নাদের চৌধুরী সমান সফল। অভিনেতা হিসেবে তিনি অভিনয় করেছেন পোড়ামন ২, প্রেম কি বুঝিনি, ডুব, নিয়তি, মেড ইন বাংলাদেশ, লালচরসহ বহু আলোচিত চলচ্চিত্রে। প্রতিটি চরিত্রেই তিনি অভিনয়ের স্বতন্ত্র দক্ষতা ও বাস্তবধর্মী উপস্থাপনার মাধ্যমে দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবেও তিনি নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তাঁর পরিচালিত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে—
লালচর (২০১৫)
মেয়েটি এখন কোথায় যাবে
২০১০ সাল থেকে তিনি টেলিভিশনের জন্য নাটক রচনা শুরু করেন। নাট্যকার হিসেবেও তাঁর লেখনী দর্শক ও নাট্যবোদ্ধাদের প্রশংসা অর্জন করেছে।
সাম্প্রতিক সময়েও নাদের চৌধুরী সমানভাবে সক্রিয়। মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ বাবার চরিত্রে তাঁর আবেগঘন অভিনয় দর্শকমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ‘গিরগিটি’, ‘বরবাদ’ এবং ‘জ্বীন ৩’-এর মতো চলচ্চিত্র ও সিরিজেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় কাজ করেছেন।
শিল্পচর্চার পাশাপাশি তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয়। বর্তমানে তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)-এর সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিল্প, সংস্কৃতি ও সমাজচিন্তাকে একসূত্রে গেঁথে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
একজন অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক, চিত্রনাট্যকার, চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক—নাদের চৌধুরী সত্যিই এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর নিষ্ঠা, প্রতিভা ও দীর্ঘ শিল্পযাত্রা বাংলাদেশের অভিনয়জগতকে সমৃদ্ধ করেছে।
জন্মদিনে এই গুণী শিল্পীর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও অব্যাহত সাফল্য কামনা করছি।
শুভ জন্মদিন, নাদের চৌধুরী!
ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, শিল্পের আলোয় আরও বহু বছর আমাদের সমৃদ্ধ করুন।