রাঙ্গামাটি শহরের উপকণ্ঠে চাঁদার দাবিতে একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ফলজ বাগানের শত শত গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (কেন্দ্রীয় কমিটি)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।শনিবার (১ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাঙ্গামাটি শহরের উপকণ্ঠে প্রায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি পেঁপে বাগানের প্রায় ৮০০টি ফলজ গাছ কেটে দেওয়ার ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বাগান মালিকের অভিযোগ অনুযায়ী, পাহাড়ের একটি আঞ্চলিক সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যরা চাঁদা দাবি করে এবং তা না পেয়ে এ নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালায়।বিজ্ঞপ্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ জানায়, পার্বত্য অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদাবাজি, অপহরণ, চাঁদার দাবিতে হত্যাকাণ্ড এবং সাধারণ মানুষের ওপর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে।সংগঠনটির নেতারা বলেন, ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি ফলজ বাগান ধ্বংসের মতো ঘটনা শুধু একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার আর্থিক ক্ষতিই নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলে বিনিয়োগ, কৃষি উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তাই এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করা উচিত নয়।প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমনে আরও কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানানো হয়।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করে, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সহিংসতার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনবে।উল্লেখ্য, এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ রানা এবং মহাসচিব মোহাম্মদ সোলায়মান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে এসব দাবি ও উদ্বেগ তুলে ধরা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি জেলা প্রতিনিধি:মোঃ কামরুল ইসলাম,
