ষাটের দশকের শেষভাগে অভিনয়জীবন শুরু করেন বলিউডের শাহেনশাহ অমিতাভ বচ্চন। ছয় দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে বিভিন্ন প্রজন্মের অসংখ্য প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পীর সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। তাদের অনেকের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবনেও ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাদের অন্যতম—প্রয়াত অভিনেতা মুকরি। ‘লাওয়ারিস’, ‘শরাবি’, ‘কুলি’সহ অনেক সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা।
২০০০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে মৃত্যুবরণ করেন মুকরি। তবে তার জানাজা ও দাফনে উপস্থিত ছিলেন না অমিতাভ বচ্চন কিংবা জয়া বচ্চন। ভিকি লালওয়ানিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান মুকরির কন্যা নাসিম মুকরি। পাশাপাশি এ-ও জানান, তার বাবার মৃত্যুর খবরে শিশুর মতো কেঁদেছিলেন অভিনেতা ঋষি কাপুর।
পডকাস্টের সঞ্চালক ভিকি লালওয়ানি নাসিমের কাছে জানতে চান, মুকরির মৃত্যুর পর অমিতাভ বচ্চন কি তাদের পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন? জবাবে নাসিম বলেন, “না। বাবার মৃত্যুর পর অমিতাভ বচ্চন একবারও আমাদের বাড়িতে আসেননি।” অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুতে অমিতাভ বচ্চনও সংগ্রাম করেছেন। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে নাসিম জানান, অভিনয়জীবনের শুরুর দিকে অমিতাভ বচ্চন অভিনেতা মেহমুদের বাড়িতে তার ছোট ভাই আনোয়ারের সঙ্গে থাকতেন। সেই সময়ে মাঝেমধ্যেই তাদের বাড়িতে যেতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলে যায়।
অনেকটা আক্ষেপের সুরে নাসিম মুকরি বলেন, “ফিল্মের বন্ধুত্ব এমনই হয়। যতদিন আপনি হিট জুটি—নায়িকা, কৌতুক অভিনেতা, খলনায়ক বা যেই হোন না কেন এবং যতদিন একসঙ্গে হিট সিনেমা উপহার দিচ্ছেন, ততদিন বন্ধুত্ব থাকে। এরপর কাজ না হলে, সব শেষ। তখন যেন বলে—‘আপনি কে?”
শেষ বিদায়েও ছিলেন না অমিতাভ-জয়া অভিনেতা মুকরি মারা যাওয়ার পর তাকে বিদায় জানাতে অমিতাভ বচ্চন কী উপস্থিত হয়েছিলেন? প্রশ্নটির জবাবে নাসিম সংক্ষেপে বলেন—‘না।’ জয়া বচ্চনের সঙ্গেও মুকরির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ‘পিয়া কা ঘর’ সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করার সময় তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এ বিষয়ে নাসিম বলেন, “জয়া বচ্চন আমার বাবার খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। সে সময় গ্রামের আউটডোর শুটিংয়ে সবাই একসঙ্গে থাকতেন। কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর তিনিও আসেননি। এমনকি, ফোনও করেননি। যদিও তখন কে কে এসেছিলেন, সেদিকে আমাদের খুব একটা খেয়ালও ছিল না।”
শিশুর মতো কেঁদেছিলেন ঋষি কাপুর ঋষি কাপুর রাত ২টার দিকে টেলিভিশনে মুকরির মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। সকাল ৭টার মধ্যেই তিনি তাদের বাড়িতে পৌঁছে যান। এ বিষয়ে নাসিম মুকরি বলেন, “সকাল ৭টায় দরজায় ঘণ্টা বেজে ওঠে। দরজা খুলে দেখি ঋষি কাপুর দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি শিশুর মতো কাঁদছিলেন। কারণ বাবা তার সঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করেছিলেন।”
ঋষি কাপুর ও মুকরি একাধিক জনপ্রিয় সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। এ তালিকার অন্যতম—‘অমর আকবর অ্যান্থনি’। সিনেমাটিতে নীতু কাপুরের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন মুকরি। নাসিম বলেন, “তাইয়্যব আলি’ গান এতটা জনপ্রিয় হয়েছিল মূলত ঋষি কাপুর ও মুকরির অসাধারণ অভিনয়ের জন্য।