টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান, এক ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে সরকারি ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট (ভিডব্লিউবি) কর্মসূচির চাল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
জানা গেছে, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০২৫–২০২৬ অর্থবছরের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কার্ডধারী সুবিধাভোগী ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৯ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গণমাধ্যমকর্মীরা অর্জুনা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখতে পান, পরিষদ ভবন থেকে চালের বস্তা স্থানীয় ব্যবসায়ী ইউসুফের লোকজন ভ্যানে করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই সময় ইউনিয়ন পরিষদে ইউপি সদস্য মনির, গ্রাম পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন উপস্থিত থাকলেও চাল সরিয়ে নেওয়া বন্ধে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরে বিষয়টি প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দিলশাদ ও ট্যাগ অফিসার সৈয়দ মনিরুজ্জামানকে মুঠোফোনে জানানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে পরে ১৩ বস্তা চাল জব্দ করা হয় এবং ব্যবসায়ী ইউসুফকে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখা হয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এর আগেই প্রায় ১০০ বস্তা চাল গোপালপুর উপজেলার একটি গ্রামে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, সুবিধাভোগীদের ছবিবিহীন কার্ড ব্যবহার করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে চাল বিতরণ না করে তা অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল করিম, কুদ্দুস মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, অসহায় নারীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি চাল নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীদের প্রাপ্য চাল নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী ইউসুফ বলেন, তিনি ইউনিয়ন পরিষদ সংশ্লিষ্টদের অনুমতি নিয়েই কয়েকটি চালের বস্তা কিনেছেন। তার দাবি, গ্রাম পুলিশও এ বিষয়ে উপস্থিত ছিলেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য মনির বলেন, চাল বিক্রির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।
এদিকে, প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দিলশাদ ও ট্যাগ অফিসার সৈয়দ মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও উঠেছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দিলশাদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনার সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত ছিলেন না। চাল কীভাবে বা কোথায় গেছে, সে বিষয়ে তার কোনো জানা নেই।
ট্যাগ অফিসার ও পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের কর্মকর্তা সৈয়দ মনিরুজ্জামানও অভিযোগ নাকচ করে বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালন ছাড়া এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। চাল বিক্রি বা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
ভূঞাপুর রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি খায়রুল খন্দকার বলেন, সাংবাদিকরা জনস্বার্থে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করেন। কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রভাবিত করার চেষ্টা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মো. আব্দুল্লাহ
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
