ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত বাংলা গানের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলজ্বল করেছেন মাহমুদুন্নবী। তার সুযোগ্য কন্যা ফাহমিদা নবী। চার দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন। এখনো গানের সঙ্গে তার নিরবিচ্ছিন্ন সম্পর্ক।
কয়েক দিন আগে গান ও জীবন নিয়ে একটি টিভি অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন ফাহমিদা নবী। জীবন নিয়ে গভীর উপলব্ধির কথা প্রসঙ্গে এই শিল্পী বলেন, “আমার প্রত্যেকটি কোণকে সাজাতে ইচ্ছে করে। কোনো দিকে অবহেলা হলো, ওই অবহেলিত জায়গাটি কী কষ্ট পায় না! কাউকে কষ্ট দিতে আমার ভালো লাগে না। মনে হয়, সবদিকই প্রাণবন্ত থাকুক।”
ফাহমিদা নবী ভালো একজন শ্রোতা। তা স্মরণ করে এই শিল্পী বলেন, “আমি জানি না, কতটুকু কী করতে পেরেছি। আমার সবসময় মনে হয়—মানুষ কী বলে, কী বলতে চায়, তারও তো একটা চাওয়া আছে, তাহলে সেটা শুনি। যে বিষয়টির সমাধান দেওয়া যায়, সেটা দিই। তবে অকারণে সমাধান দিতে যাওয়াটাও ঠিক না। অনেক সময় হিতে বিপরীত হতে পারে। আমার মনে হয়, ভালো শ্রোতা হওয়াটাও একটা শক্তি।”
প্রচলিত একটি কথা টেনে ফাহমিদা নবী বলেন, “একটি কথা আছে—তুমি যদি কোথাও যাও, তবে এমনভাবে যাও, মানুষ যেন তোমাকে দেখে কিছু শেখে। কিন্তু সেখান থেকে ফেরত আসার সময়ে কিছু কমতি নিয়ে ফিরো। যাতে করে তুমি সেখান থেকে শেখার কোনো বিষয় নিয়ে আসতে পারো।”
গানের সঙ্গে ফাহমিদা নবীর আত্মীক সম্পর্ক। প্রতিদিন কতগুলো গান শুনেন? এ প্রশ্নের জবাবে এই শিল্পী বলেন, “অনেক গান শুনি। আমার অনেক গান শোনা হয়। মাঝে কিছুদিন একদমই গান শোনা হচ্ছিল না। তখন আমার খুবই ক্লান্ত লাগত। মনে হতো, কি যেন একটা নেই।”
খানিকটা ব্যাখ্যা করে ফাহমিদা নবী বলেন, “আমি কিন্তু সবার গান শুনি। কখনো কখনো একটি গান একদিনে ষোলবারও শুনে ফেলি। তবে এখন আবার শুনছি। কিন্তু প্রতিদিন কতগুলো গান শুনি তা সঠিকভাবে বলতে পারব না, কিন্তু অনেক সময় ধরে গান শোনা হয়।”