ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা কোল্লা পাথর, যা স্থানীয়দের কাছে ‘মিনি সাজেক’ নামে পরিচিত, বর্তমানে ভ্রমণপিপাসুমানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি ও অবসর সময়কে কেন্দ্র করে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত দর্শনার্থী প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন
সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ, উঁচু-নিচু টিলা, খোলা আকাশ এবং নিরিবিলি প্রকৃতির আবহ কোল্লা পাথরকে দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্যপরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে অনেকেই ছুটির দিনের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে ভ্রমণে আসছেন। বিশেষ করে বিকেলের দিকে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঈদ, পহেলা বৈশাখ, বিজয় দিবসসহ বিভিন্ন উৎসব ও ছুটির সময় কোল্লা পাথরে দর্শনার্থীদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। চলতি সময়ে আগের বছরের তুলনায় ভিড় কিছুটা কম থাকলেও দিন যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে মানুষের আনাগোনাসামনের দিনগুলোতে ছুটির আমেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শনার্থীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে বলে তারা আশা করছেন
দর্শনার্থীরা জানান, শহরের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে কিছুটা সময়ের জন্য দূরে থেকে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করার জন্য কোল্লা পাথর একটি আদর্শ স্থানএখানকার নির্মল বাতাস, সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত পরিবেশ তাদের বারবার এখানে আসতে অনুপ্রাণিত করে। অনেকেই স্মৃতিময় মুহূর্ত ধরে রাখতে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় পার
করছেন
পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যছোট-বড় দোকান, খাবারের স্টল ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেড়েছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও এলাকাবাসী পর্যটকদের প্রতি পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, কোল্লা পাথরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষায় ময়লা-আবর্জনাযেখানে-সেখানে না ফেলে নির্ধারিত স্থানে ফেলতে হবে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি আরও বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত পরিবেশ এবং অপার পর্যটন সম্ভাবনার কারণে কোল্লা পাথর ‘মিনি সাজেক’ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছেদর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর এই স্থানটি কসবা উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছে। B
শাহ মুহাম্মদ ফুরকানুল ইসলাম।
