সৌন্দর্য, যৌন আবেদন আর স্টারডমের এক অবিনশ্বর প্রতীক ছিলেন হলিউডের কিংবদন্তি অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো।
একাধারে অভিনেত্রী, গায়িকা ও মডেল, ১৯৫০-এর দশকে ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছিলেন এই ক্ষণজন্মা তারকা। আজও তিনি বিউটি ও গ্ল্যামারের অনন্য মাপকাঠি।
মেরিলিন মনরোর জন্ম নর্মা জেন মর্টেনসন নামে, ১৯২৬ সালের ১ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলসে। শৈশব কেটেছে দুঃখ-দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তায়। মা ছিলেন মানসিকভাবে অসুস্থ, বাবার পরিচয় ছিল অনির্দিষ্ট। শিশুকাল কেটেছে এতিমখানা ও পালক পরিবারে।
এক সাক্ষাৎকারে মনরো বলেছিলেন, "আমার অভিনয়ের নেশা ছিলো ছোটবেলা থেকেই। বাস্তবতা থেকে পালিয়ে আমি কল্পনার মঞ্চে নিজের জায়গা খুঁজতাম।"
মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রথম বিয়ে করেন জিম ডগার্থিকে। কিন্তু সে সংসারে সুখ পাননি। যুদ্ধকালীন বিমান কারখানায় কাজ করতে গিয়ে আলোকচিত্রী ডেভিড কনোভার তাঁর ছবি তোলেন—সেখান থেকেই শুরু হয় গ্ল্যামার দুনিয়ায় পদার্পণ।
১৯৪৫ সালে মডেলিং শুরু করে দ্রুতই ৩০টিরও বেশি ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে স্থান করে নেন।
১৯৪৬ সালে নিজের নাম পরিবর্তন করে হয়ে ওঠেন ‘মেরিলিন মনরো’, এবং চুক্তিবদ্ধ হন টুয়েন্টিথ সেঞ্চুরি ফক্সের সঙ্গে।
প্রথম দিকে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করলেও, ‘অল অ্যাবাউট ইভ’ (১৯৫০) ও ‘নায়াগ্রা’ (১৯৫৩) তাঁকে খ্যাতির শিখরে তুলে আনে।
‘নায়াগ্রা’ ছবি মুক্তির পর তাঁর সৌন্দর্য ও পোশাক নিয়ে বিতর্ক হলেও, বক্স অফিসে বাজিমাত করে—এই ছবি তাঁকে নতুন সংজ্ঞা দেয়, ‘সিনেমার গ্ল্যামার গার্ল’ হিসেবে।
১৯৫৩ সালে স্যাটায়ারধর্মী ‘জেন্টলম্যান প্রেফার ব্লন্ডস’ ছবিতে প্রথমবার নিজের অভিনয়ের সক্ষমতা প্রমাণ করেন।
এরপর ‘হাউ টু ম্যারি এ মিলিয়নিয়ার’, ‘দ্য সেভেন ইয়ার ইচ’, ‘বাস স্টপ’, এবং ‘সাম লাইক ইট হট’ - একের পর এক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন জনপ্রিয় ও দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে।
‘সাম লাইক ইট হট’-এর জন্য তিনি গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন।
মনরো মোট তিনবার বিয়ে করেন — জিম ডগার্থি, কিংবদন্তি বেসবল খেলোয়াড় জো ডি ম্যাজিও, এবং নাট্যকার আর্থার মিলার।
ব্যক্তিজীবনে তিনি নানা প্রতিকূলতার শিকার হন। প্রেম, বেদনা, একাকীত্ব, মানসিক অবসাদ ও ড্রাগ নির্ভরতা তাঁর জীবনকে ছায়াচ্ছন্ন করে তোলে।
১৯৬২ সালে প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি-র জন্মদিনে মঞ্চে তাঁর গান পরিবেশন (‘‘Happy Birthday, Mr. President’’) আজও ইতিহাসে অমর।
তবে সেই বছরেই, ৫ আগস্ট, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে লস অ্যাঞ্জেলসে নিজ বাসায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁকে।
অফিশিয়ালি মৃত্যু ‘বারবিচারিত ওভারডোজ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, তাঁর মৃত্যু আজও রহস্যে ঘেরা।
মেরিলিন মনরো শুধু এক বিউটি আইকন ছিলেন না — তিনি এক প্রতীক। স্বপ্ন, খ্যাতি, প্রেম, যন্ত্রণা আর সাহসের এক সংমিশ্রণ।
আজও তাঁর সেই সাদা স্কার্ট উড়ানো দৃশ্য, অনন্য হাসি, নরম গলায় বলা সংলাপ – সবকিছুই কালজয়ী।
তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, জৌলুসের আড়ালেও থাকে একজন মানুষ, যিনি ভালোবাসা খুঁজেছেন, নিজের জায়গা খুঁজেছেন।
“If you can make a woman laugh, you can make her do anything.”
– Marilyn Monroe
আজ, তাঁর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
তাঁর সৌন্দর্য ও কাজ আজও আমাদের মনে আলো জ্বেলে যায়।
মেরিলিন মনরো, আপনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন — অনন্তকাল।