মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা: ঝুঁকিতে যানবাহন ও পথচারী।

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা: ঝুঁকিতে যানবাহন ও পথচারী।

ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা: ঝুঁকিতে যানবাহন ও পথচারী।

সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশের অন্তত ১০টি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটি এখন কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চালক। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার না হলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

মঙ্গলবার  (৪ আগস্ট) সরেজমিনে গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক পর্যন্ত সড়ক ঘুরে দেখা যায়, তকিপুর এলাকায় প্রায় ৩০০ ফুট সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। ঝাওয়া পুলিশ বক্সের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে প্রায় ২০০ ফুট এলাকাজুড়ে এক থেকে দেড় ফুট গভীর অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। এছাড়া সুফিনগর, তাজপুর, হাসনাবাদ, মাধবপুর, হাসান চত্বর, ২ নম্বর সেতু এলাকা এবং রহমতবাগসহ অন্তত ১০টি স্থানে সড়কের একই বেহাল চিত্র দেখা গেছে।

অন্যদিকে, ঝাওয়া থেকে তাজপুর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে ঝোপঝাড় ও জঙ্গল বেড়ে যাওয়ায় অনেক স্থানে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। বিশেষ করে হাসনাবাদ থেকে গোবিন্দগঞ্জ পর্যন্ত সড়কের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। বিভিন্ন স্থানে সড়ক দেবে গিয়ে ঢেউখেলানো আকার ধারণ করেছে এবং বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় মালবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে ১২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে সর্বোচ্চ ২০ মিনিট সময় লাগলেও বর্তমানে একই পথ পাড়ি দিতে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি গর্ভবতী নারী ও রোগী পরিবহনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে নিয়মিত যানজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

একাধিক চালক জানান, সড়কের বড় বড় গর্তের কারণে প্রতিনিয়ত তাদের যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ছোটখাটো একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ভারী যানবাহনের জন্য ঝুঁকি আরও বেড়েছে। যেকোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সুনামগঞ্জ জেলা সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান বলেন, এটি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। বর্তমানে এটি কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।

সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন চালক, যানবাহনের মালিক, শ্রমিক নেতা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

এ বিষয়ে ছাতক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. সাদাৎ হোসেন বলেন, সড়কটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত সংস্কার করতে শিগগিরই মেরামত কাজ শুরু হবে। 

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি