বুধবার, আগস্ট ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৫ টাকার কলমের বিল ১২০ টাকা

৫ টাকার কলমের বিল ১২০ টাকা

৫ টাকার কলমের বিল ১২০ টাকা

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার স্টেশনারি সামগ্রী ক্রয়কে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কোটেশন নথিতে একটি মেটাডোর বলপেনের মূল্য ৫ টাকা উল্লেখ থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া বিলে প্রতিটি কলমের দাম দেখানো হয়েছে ১২০ টাকা। একই সঙ্গে কোটেশনে অংশ নেওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য না থাকায় পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। যদিও পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি বিল তৈরির সময় অনিচ্ছাকৃত ভুল; মোট ব্যয়ের হিসাবে কোনো অসঙ্গতি হয়নি।
 

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই ১০ ধরনের স্টেশনারি সামগ্রী কেনার জন্য কোটেশন আহ্বান করা হয়। ১২ জুলাই কোটেশন খোলার পর সততা এন্টারপ্রাইজ, সেবা এন্টারপ্রাইজ ও মোরাদ এন্টারপ্রাইজ অংশ নেয়। পরে মোরাদ এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়।
কোটেশন অনুযায়ী ১০০টি মেটাডোর বলপেনের একক মূল্য ছিল ৫ টাকা। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা বিলে প্রতিটি কলমের মূল্য ১২০ টাকা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অফসেট পেপার, স্ট্যাপলার পিন, পিন রিমুভার, পেন্সিল ব্যাটারি, ক্যালকুলেটর, রেজিস্টার খাতা ও পাঞ্চ মেশিনসহ ১০টি পণ্যের কোটেশনমূল্য ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৭৪ টাকা। কিন্তু পরবর্তীতে ১ লাখ ২২ হাজার টাকার বিল জমা দেওয়া হয়।
 

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোটেশনে অংশ নেওয়া সততা এন্টারপ্রাইজের পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর নেই। কার্যাদেশপ্রাপ্ত মোরাদ এন্টারপ্রাইজেরও মোবাইল নম্বর উল্লেখ করা হয়নি। অপরদিকে সেবা এন্টারপ্রাইজের একটি মোবাইল নম্বর থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
 

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে এবং নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্য রেখে বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক।
তবে শ্রীপুর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সব নিয়ম অনুসরণ করেই কোটেশন সম্পন্ন হয়েছে। বিলে অনিচ্ছাকৃতভাবে কলমের মূল্য বেশি লেখা হয়েছিল। তবে মোট ব্যয়ের হিসাবে কোনো গরমিল হয়নি।”
 

পৌরসভার প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সাহেদ আখতার বলেন, “বিলে কলমের দাম বেশি উল্লেখ করা হয়েছিল। যাচাই করে দেখা গেছে, মোট বিলের পরিমাণ কোটেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক নাহিদ ভূঁইয়া বলেন, “একটি পণ্যের দাম বেশি দেখানো হলেও অন্য কয়েকটি পণ্যের দাম কম ছিল। সব মিলিয়ে মোট ব্যয় সঠিক রয়েছে। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি প্রয়োজন হলে আরও পর্যালোচনা করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের মতে, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অসামঞ্জস্য জনমনে সন্দেহ তৈরি করে। তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। 

শ্রীপুর(গাজীপুর)প্রতিনিধি: