কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনীমের নির্দেশে পরিচালিত অভিযানে ৬০ বস্তায় থাকা প্রায় ৩ মেট্রিক টন ডিএপি সার উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও রাজারহাট থানা পুলিশ। উদ্ধার করা সার বর্তমানে রাজারহাট থানার হেফাজতে রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজারহাট বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী মোঃ আনিচুর রহমানের দোকান থেকে তিনটি ভ্যানযোগে ৬০ বস্তা ডিএপি সার পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকার উদ্দেশে নেওয়া হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে ইউএনও তানজিলা তাসনীমের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও রাজারহাট থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভ্যানগুলো আটক করে সারগুলো উদ্ধার করা হয়।
রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে তিস্তা নদীর কাছাকাছি এলাকায় ভ্যানগুলো আটক করা হয় এবং ৬০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, ‘রাতের বেলায় এভাবে সার পরিবহনের কোনো আইনগত বিধান নেই। এছাড়া যেখান থেকে সারগুলো নেওয়া হচ্ছিল, ওই ব্যক্তি কৃষি অফিসের অনুমোদিত ডিলার নন।’
আটক ভ্যানচালক সোহেল জানান, সার পরিবহনের জন্য তাদের ভাড়া করা হয়েছিল। সারগুলোর মালিক কে, তা তারা জানেন না। তবে যে স্থান থেকে সারগুলো তোলা হয়েছিল, সেটি তারা শনাক্ত করতে পারেন।
পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, সারগুলো রাজারহাট বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী মোঃ আনিচুর রহমানের দোকান থেকে নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে খুচরা সার ব্যবসায়ী মোঃ আনিচুর রহমানের বক্তব্য জানার জন্য মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার করা সার বর্তমানে রাজারহাট থানার হেফাজতে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হাফিজুর রহমান
রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
