ভোলা, ৫ আগস্ট: গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এবং জুলাইয়ের সহিংস ঘটনায় দায়ীদের বিচারের দাবিতে ভোলায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় জোট। কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (৫ আগস্ট) বাদ আসর ভোলা প্রেসক্লাব সংলগ্ন কাবিন মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
সমাবেশে জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, তা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি জরুরি। তাদের মতে, রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা এবং বিচার নিশ্চিত করার প্রশ্নে জনগণের আকাঙ্ক্ষা এখন আরও প্রবল।
সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুহাম্মদ জাকির হোসাইন, জেলা নায়েবে আমীর ও ভোলা-১ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট ইলিয়াস সুমন, এলডিপির জেলা সভাপতি সাংবাদিক বশির আহমেদ, সদর উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামাল হোসাইন, পৌর আমীর মাওলানা জামাল উদ্দিন, নায়েবে আমীর মো. রুহুল আমিনসহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছে। তাদের দাবি, ওই সময়ের প্রাণহানির ঘটনাগুলোর বিচার সম্পন্ন করা এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্যোগ বাস্তবায়ন সময়ের দাবি। তারা অভিযোগ করেন, বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমে বিলম্ব জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সমাবেশ থেকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় গঠন, গুম কমিশন পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডসহ জুলাইয়ের সব সহিংস ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল কাবিন মসজিদ চত্বর থেকে বের হয়ে ভোলা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সড়কসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাটখোলা মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে শহরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার ও সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি না এলে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে। তবে কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগ করেন।
