বিশেষ করে তেলুগু ও হিন্দি চলচ্চিত্রে তাঁর শক্তিশালী অভিনয়, সংলাপ পরিবেশন এবং চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তাঁকে দর্শকদের কাছে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে খলনায়ক, সামরিক কর্মকর্তা কিংবা পারিবারিক চরিত্র—বিভিন্ন ধরনের ভূমিকায় সাবলীল অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেছেন, একজন দক্ষ চরিত্রাভিনেতা একটি চলচ্চিত্রের গল্পকে কতটা সমৃদ্ধ করতে পারেন।
মুরলী শর্মা ১৯৭২ সালের ৯ আগস্ট ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুরে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি মুম্বাইয়ে বেড়ে ওঠেন। স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করার পর অভিনয়ের প্রতি গভীর আগ্রহ তাঁকে নিয়ে যায় মুম্বাইয়ের বিখ্যাত রোশন তানেজা অ্যাক্টিং স্কুলে, যেখানে তিনি অভিনয়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
চলচ্চিত্রে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে মুরলী শর্মা টেলিভিশনে অভিনয় করেন। দূরদর্শনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পল্টন’-এ কর্নেল আর. এস. সাজওয়ানের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের নজরে আসেন। তাঁর দৃঢ় ব্যক্তিত্ব ও সাবলীল অভিনয় তাঁকে দ্রুত পরিচিত করে তোলে।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে চলচ্চিত্রে সক্রিয় মুরলী শর্মা ধীরে ধীরে হিন্দি ও দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং তেলুগু ও হিন্দির পাশাপাশি তামিল, মারাঠি, কন্নড় ও মালয়ালম ভাষার চলচ্চিত্রেও কাজ করেছেন।
তাঁর অভিনয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—ছোট কিংবা বড়, যেকোনো চরিত্রকে তিনি নিজের অভিনয়গুণে স্মরণীয় করে তুলতে পারেন।
মুরলী শর্মার অভিনয়জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর বিভিন্ন ধরনের পুলিশ কর্মকর্তা চরিত্রে অভিনয়। কঠোর, রাশভারী এবং কর্তৃত্বপূর্ণ পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় তাঁর স্বাভাবিক অভিনয় দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তবে শুধু পুলিশ চরিত্রেই তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি—খলনায়ক, রাজনীতিবিদ, সামরিক কর্মকর্তা, বাবা কিংবা পারিবারিক চরিত্রেও সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
পুরস্কার ও স্বীকৃতি-
দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় প্রতিভার স্বীকৃতিও এসেছে বিভিন্ন পুরস্কারের মাধ্যমে। তেলুগু চলচ্চিত্রে অসামান্য অভিনয়ের জন্য তিনি নন্দী পুরস্কারসহ সম্মাননা লাভ করেছেন।
মুরলী শর্মা ২০০৯ সালে জনপ্রিয় ভারতীয় অভিনেত্রী অশ্বিনী কালসেকর-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অভিনয়জগতের এই দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বিনোদন জগতে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছেন।
নায়ক-নায়িকার পাশাপাশি একটি সিনেমার গল্পকে প্রাণবন্ত করে তোলেন চরিত্রাভিনেতারাই। মুরলী শর্মা তাঁদেরই একজন। তাঁর অভিনয়ে কখনও কঠোরতা, কখনও রহস্য, কখনও হাস্যরস, আবার কখনও আবেগ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেকে বদলে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা দেখা যায়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য চরিত্রে অভিনয় করেও আজও তিনি দর্শকদের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। তাঁর পর্দায় উপস্থিতি অনেক সময় কয়েক মিনিটের হলেও চরিত্রটি দর্শকের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যায়—এটাই একজন দক্ষ চরিত্রাভিনেতার বড় সাফল্য।
আজ এই গুণী অভিনেতার জন্মদিন।
জন্মদিনে মুরলী শর্মার প্রতি রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।
তাঁর সুস্থতা, দীর্ঘায়ু ও অভিনয়জীবনের আরও সাফল্য কামনা করি।
আগামী দিনেও তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে ভারতীয় চলচ্চিত্রের পর্দা আরও সমৃদ্ধ হোক—এই প্রত্যাশা।