সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬
 শিরোনাম
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭টি মার্কিন ঘাঁটিতে আইআরজিসির হামলা সুনামগঞ্জ-এর ছাতক থানা পুলিশের অভিযানে নিয়মিত মামলার ৩ আসামি গ্রেফতার শাহ আমানত বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যের ১০ ফ্লাইট বাতিল এনসিপির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দেশজুড়ে কর্মসূচি বঙ্গোপসাগরে জলদস্যু দমনে প্রযুক্তিনির্ভর কঠোর নজরদারি-টহল প্রতিমন্ত্রী হয়ে নিজ এলাকায় নুরুল হক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এলাকা ছাড়ার হুঁশিয়ারি: টেকনাফে এমপি শাহজাহান চৌধুরী নগরবাসীর নিরাপত্তায় মধ্যরাতে রাস্তায় আইজিপি: আকস্মিক পরিদর্শনে কড়া বার্তা পাকিস্তান সীমান্তে আফগানিস্তানের হামলা, কাবুল-কান্দাহারে পাল্টা হামলা ফোন করে জামায়াত আমিরের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আজ বাংলা অভিনয় জগতের এক বহুমুখী প্রতিভা রজতাভ দত্তের শুভ জন্মদিন

আজ বাংলা অভিনয় জগতের এক বহুমুখী প্রতিভা রজতাভ দত্তের শুভ জন্মদিন

আজ বাংলা অভিনয় জগতের এক বহুমুখী প্রতিভা রজতাভ দত্তের শুভ জন্মদিন

[11:36 AM, 8/11/2026] @MOHIT82082: খলনায়কের কঠোর মুখ, কমেডির সহজাত রসবোধ, আবার কখনও গভীর আবেগময় চরিত্র—অভিনয়ের প্রতিটি পরিসরেই নিজের স্বাতন্ত্র্যের ছাপ রেখেছেন রজতাভ দত্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা চলচ্চিত্র, টেলিভিশন, ওয়েব ও মঞ্চে তাঁর সাবলীল অভিনয় তাঁকে দর্শকের কাছে এক অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় মুখে পরিণত করেছে।
১৯৬৭ সালের ১১ আগস্ট যশোরে, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে রজতাভ দত্তের জন্ম। অভিনয়জগতে তাঁর পথচলা শুরু হয় মঞ্চ দিয়ে। ১৯৮৭ সাল থেকে থিয়েটারে অভিনয় শুরু করে তিনি ধীরে ধীরে নিজেকে একজন দক্ষ মঞ্চশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। পরবর্তীকালে বাংলা থিয়েটারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রযোজনা ও দলের সঙ্গে কাজ করেছেন।

 


মঞ্চের অভিনয় তাঁকে চরিত্রের গভীরে প্রবেশ করতে, সংলাপকে জীবন্ত করে তুলতে এবং দর্শকের সামনে চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। সেই মঞ্চ-অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে তাঁর অভিনয়ের অন্যতম শক্তি হয়ে ওঠে।
১৯৯৮ সালে ‘আজব গাঁয়ের আজব কথা’ ছবির মাধ্যমে রজতাভ দত্তের চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য বাংলা ছবির তালিকা বেশ দীর্ঘ।


এর মধ্যে রয়েছে—
- পারমিতার একদিন
- এমএলএ ফাটাকেষ্ট
- চ্যালেঞ্জ
- পাগলু
- বস: বর্ন টু রুল
- কানামাছি
- বদশাহী আংটি
- গুপ্তধনের সন্ধানে
- হইচই আনলিমিটেড
- রসগোল্লা
- প্রজাপতি বিস্কুট
- বাই বাই ব্যাংকক
- বোম্বে ভেলভেট
- ওপেন টি বায়োস্কোপ
- বগলা মামা যুগ যুগ জিও
সহ আরও বহু ছবি।

 


খলনায়ক থেকে চরিত্রাভিনেতা—সর্বত্র স্বচ্ছন্দ-
রজতাভ দত্তের অভিনয়ের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তাঁর বহুমুখিতা। কখনও তিনি ভয়ংকর প্রতিপক্ষ, কখনও মজার চরিত্রে দর্শককে হাসিয়েছেন, আবার কখনও সংবেদনশীল ও জীবনঘনিষ্ঠ চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

 

বিশেষ করে ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’, ‘চ্যালেঞ্জ’, ‘পাগলু’, ‘বস’-এর মতো বাণিজ্যিক ছবিতে তাঁর নেতিবাচক চরিত্র দর্শকের মনে দাগ কেটেছে। অন্যদিকে ‘পারমিতার একদিন’, ‘ওপেন টি বায়োস্কোপ’, ‘বগলা মামা যুগ যুগ জিও’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয়ের অন্য মাত্রা দেখা যায়।

 

‘পারমিতার একদিন’-এর মতো ছবিতে অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন, যা তাঁর অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর একটি।
বাংলার গণ্ডি পেরিয়ে হিন্দি ও ইংরেজি ছবিতেও-
শুধু বাংলা নয়, রজতাভ দত্ত হিন্দি ও ইংরেজি ভাষার ছবিতেও অভিনয় করেছেন। হিন্দি ছবির মধ্যে রয়েছে ‘কামিনে’, ‘এক থি ডায়ান’, ‘মেরি প্যায়ারি বিন্দু’ প্রভৃতি। ইংরেজি ভাষার ছবি ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’-এও তাঁকে দেখা গেছে।
টেলিভিশনে ‘রণিদা’-


বড় পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশনেও তাঁর জনপ্রিয়তা ব্যাপক। বিশেষ করে জি বাংলার জনপ্রিয় কমেডি রিয়েলিটি শো ‘মীরাক্কেল’-এর বিচারক হিসেবে তিনি দুই বাংলার দর্শকের কাছে নতুন করে বিপুল পরিচিতি লাভ করেন।
তাঁর রসবোধ, স্বতঃস্ফূর্ত মন্তব্য এবং প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রাণবন্ত মিথস্ক্রিয়া তাঁকে টেলিভিশনেরও অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ করে তোলে।
অনেক দর্শকের কাছে তাঁর ডাকনাম ‘রণিদা’ আজও সমান জনপ্রিয়।

 


মঞ্চ থেকে ক্যামেরা—একই শিল্পীর বহু রূপ-
রজতাভ দত্তের দীর্ঘ অভিনয়জীবনের দিকে তাকালে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি কোনো একটি নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রে নিজেকে আটকে রাখেননি। থিয়েটারের মঞ্চ, বাণিজ্যিক বাংলা সিনেমা, সাহিত্যনির্ভর ছবি, কমেডি, নেতিবাচক চরিত্র, টেলিভিশন কিংবা ওয়েব সিরিজ—প্রতিটি মাধ্যমেই তিনি নিজের অভিনয়ক্ষমতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
তাঁর অভিনীত কাজের তালিকাও ক্রমশ সমৃদ্ধ হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতেও তিনি নিয়মিত চলচ্চিত্র ও অন্যান্য পর্দার কাজে যুক্ত রয়েছেন। ২০২৬ সালেও তাঁর অভিনীত ‘Promoter Boudi’-সহ নতুন কাজের উল্লেখ পাওয়া যায়।

 

অভিনয় তাঁর কাছে শুধু পেশা নয়, এক দীর্ঘ সাধনা-
একজন অভিনেতার সবচেয়ে বড় সাফল্য তখনই, যখন দর্শক অভিনেতাকে নয়—চরিত্রটিকে মনে রাখে। রজতাভ দত্তের অভিনয়জীবনে এমন অসংখ্য চরিত্র রয়েছে, যেগুলো তাঁর উপস্থিতি ও অভিনয়ের কারণে আলাদা হয়ে উঠেছে।
কখনও তাঁর সংলাপ হাসিয়েছে, কখনও বিরক্ত করেছে, কখনও ভয় দেখিয়েছে, আবার কখনও নিঃশব্দে আবেগী করে তুলেছে দর্শককে। এই বহুমাত্রিক অভিনয়ক্ষমতাই তাঁকে সমসাময়িক বাংলা অভিনয়জগতের অন্যতম স্বতন্ত্র শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা
জীবনের এই বিশেষ দিনে প্রিয় অভিনেতা রজতাভ দত্তকে জানাই আন্তরিক জন্মদিনের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।
তাঁর অভিনয়ের ঝুলিতে আরও অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র যুক্ত হোক, মঞ্চ ও পর্দায় তাঁর সৃজনশীল পথচলা আরও দীর্ঘ হোক—এই কামনা করি।
শুভ জন্মদিন, রজতাভ দত্ত।


আপনার অভিনয়ের জাদুতে আরও বহু বছর মুগ্ধ হোক বাংলা ও ভারতীয় চলচ্চিত্রের দর্শক।
“অভিনেতা বদলে যান, চরিত্র বদলে যায়—
কিন্তু কিছু অভিনয় থেকে যায় দর্শকের স্মৃতিতে।” 
রজতাভ দত্তকে জন্মদিনের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
 আজ বলিউডের অ্যাকশন হিরো ও সফল উদ্যোক্তা