“ইলিয়াস কাঞ্চন আমাদের গ্রামের জন্য কী করেছেন?”—সম্প্রতি এমন প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আশুতিয়া পাড়া গ্রামের মানুষের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয় এক বাসিন্দার মতে, এই প্রশ্ন করার আগে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা প্রয়োজন।
ইলিয়াস কাঞ্চন শুধু চলচ্চিত্র অভিনেতা নন; তিনি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আশুতিয়া পাড়া গ্রামের সন্তান। নিরাপদ সড়কের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কারণে তিনি দেশজুড়ে বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ও অবদানের জন্যও তিনি একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলিয়াস কাঞ্চন তাঁর গ্রামের অনেক জমিজমা বিক্রি করে দিয়েছেন। তবে এখনো তাঁর কিছু পুকুর ও অন্যান্য সম্পত্তি রয়েছে। এসব সম্পত্তি তাঁর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন হওয়ায় সেগুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারও তাঁরই।
স্থানীয় ওই বাসিন্দার দাবি, আশুতিয়া পাড়া গ্রামে ইলিয়াস কাঞ্চনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো “জাহানারা কাঞ্চন তাহফিজুল কুরআন মাদ্রাসা” প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ। প্রায় দুই যুগ ধরে প্রতিষ্ঠানটি কুরআন শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে জানা যায়। একই সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষকসহ বিভিন্ন ব্যয় বহনের ক্ষেত্রেও ইলিয়াস কাঞ্চন দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা করে আসছেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হলেও মাদ্রাসার সামনে এখনো একটি যথাযথ সাইনবোর্ড না থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি দৃশ্যমান করার জন্য সাইনবোর্ড স্থাপনসহ অন্যান্য কাজে ইলিয়াস কাঞ্চনের পাশাপাশি গ্রামবাসী, শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিরও দায়িত্ব রয়েছে।
সম্প্রতি দীর্ঘদিন লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফেরেন ইলিয়াস কাঞ্চন। চিকিৎসার জন্য আবারও লন্ডনে যাওয়ার আগে তিনি নিজের পৈতৃকভূমি আশুতিয়া পাড়ায় আসেন। স্থানীয় ওই বাসিন্দার মতে, অসুস্থতার মধ্যেও জন্মভূমির টানে গ্রামে আসা তাঁর সঙ্গে গ্রামের মানুষের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, ইলিয়াস কাঞ্চনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে সম্মান জানাতে পারতেন। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতো।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রাম থেকে ফেরার সময় ইলিয়াস কাঞ্চন মাদ্রাসার সামনে গাড়ি থামিয়ে একজন শিক্ষকের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন। বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় ওই বাসিন্দা।
মাদ্রাসার জন্য নির্ধারিত জায়গা বা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে যদি কোনো প্রত্যাশা থাকে, তাহলে তা সম্মান ও আন্তরিকতার সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনের কাছে তুলে ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে বিষয়টি তাঁর কাছে উপস্থাপন করলে তিনি বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।
স্থানীয় ওই বাসিন্দা আরও বলেন, “সম্পদ চাওয়ার আগে সম্পর্ক তৈরি করা উচিত, দাবি করার আগে সম্মান দেওয়া উচিত এবং অভিযোগ করার আগে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।”
তিনি মনে করেন, একজন মানুষকে শুধু তিনি কতটুকু জমি বা সম্পত্তি দিয়েছেন—তা দিয়ে মূল্যায়ন করা ঠিক নয়। জন্মভূমির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা, কুরআন শিক্ষার প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়া এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা—এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ইলিয়াস কাঞ্চন আশুতিয়া পাড়ার সন্তান হিসেবে গ্রামের গর্ব। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনে তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামও শুধু গ্রামের নয়, পুরো দেশের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান।
স্থানীয় ওই বাসিন্দা ইলিয়াস কাঞ্চনের সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, “ইলিয়াস কাঞ্চন সাহেব, আপনি আমাদের আশুতিয়া পাড়ার গর্ব। আপনার চিকিৎসা সফল হোক এবং সুস্থ হয়ে আপনি আবার আমাদের মাঝে ফিরে আসুন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
— একজন আশুতিয়া পাড়ার বাসিন্দার মনের কথা।
বদরুজ্জামান ভূঁইয়া সোহাগ
কিশোরগঞ্জ।